📌 নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আইএফজে ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম নিন্দা জানিয়ে তদন্তের দাবি জানায়। সাংবাদিকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য হুমকির শিকার ছিলেন
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে) নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সাংবাদিকটি তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য হুমকির শিকার হয়েছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫ অক্টোবর রাত ৮টায় নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল বাজারে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- 📌 দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, বন্দুকধারীদের হামলায় আলিফের ঘাড়, মাথা ও বুকে অন্তত তিনটি গুলির ক্ষত হয়েছে।
- 📌 আইএফজের মহাসচিব অ্যান্থনি বেলাঙ্গার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পরও সাংবাদিকদের ওপর অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারহীনতা রয়ে গেছে।
- 📌 ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বরও আলিফকে দুর্গাপুরে ছুরিকাঘাতে আক্রমণ করা হয়েছিল, কিন্তু হামলাকারীরা এখনো শনাক্ত হয়নি।
- 📌 আলিফ ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন এবং মাদক পাচার, চোরাচালান ও দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন।
📰 বিস্তারিত
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল বাজারে ১৫ অক্টোবর রাত আটটায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন আলিফকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, বন্দুকধারীদের হামলায় আলিফের ঘাড়, মাথা ও বুকে অন্তত তিনটি গুলির ক্ষত হয়েছে। পুলিশের তদন্ত চলছে বন্দুকধারীদের শনাক্ত করতে এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনে।
আইএফজের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিজেদের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) সঙ্গে মিলে লুৎফুজ্জামান আলিফের হত্যার নিন্দা ও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। আইএফজের মহাসচিব অ্যান্থনি বেলাঙ্গার বলেন, “সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি ও ভয়াবহ এক আঘাত। দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ চলছে। এরপরও সাংবাদিকদের ওপর অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতি রয়ে গেছে। ফলে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বাংলাদেশ এখনো বিপজ্জনক একটি জায়গা।”
আলিফ বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন এবং বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধ-সংক্রান্ত সন্দেহভাজন কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন। সাংবাদিকটি যে সপ্তাহে হত্যার শিকার হন, সেই সপ্তাহেও তিনি মাদক পাচার ও স্থানীয় চোরাচালান চক্র নিয়ে কিছু অনুসন্ধানী তথ্য প্রকাশ করেছিলেন।
এই ঘটনার আগে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বরও আলিফকে দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তেরীবাজার ঘাটের কাছে ছুরিকাঘাতে জখম করা হয়েছিল। ওই হামলাকারীরাও এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়নি।
"সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি ও ভয়াবহ এক আঘাত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা, উত্তরাইল বাজার, শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির, অ্যান্থনি বেলাঙ্গার, খন্দকার শাকের আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ অক্টোবর, ১০ নভেম্বর ২০২৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!