📌 হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বাংলাদেশের নতুন আইনগুলোকে মানবাধিকার সুরক্ষা দুর্বল করে তুলেছে বলে অভিযোগ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, নতুন আইনসমূহে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে এবং গুম প্রতিরোধ আইনেও সংস্কারমূলক পদক্ষেপের পেছনে পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নেওয়া তিনটি নতুন আইন মানবাধিকার সুরক্ষা দুর্বল করেছে এবং সরকারের সংস্কারমূলক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি জানায়, নতুন আইনগুলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) স্বাধীনতা ও তদন্ত ক্ষমতা সীমিত করেছে এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি তৈরি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এইচআরডব্লিউর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন আইনসমূহে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপের পেছনে পড়া হয়েছে এবং গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
- 📌 ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হওয়া নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হয়নি।
- 📌 ১০ সেপ্টেম্বর পাস হওয়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশে থাকা ক্ষমতা যেমন আটককেন্দ্র পরিদর্শন ও গোপন আটকস্থল শনাক্তের ক্ষমতা বাদ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 ১০ সেপ্টেম্বর পাস হওয়া স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইনে র্যাবের জনবল ও সম্পদ নতুন বাহিনীতে স্থানান্তরিত হলেও মানবাধিকার সুরক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাবিধান ও তদারকি ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ করেছে এইচআরডব্লিউ।
- 📌 ইলেইন পিয়ারসন, এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক, বলেছেন, অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাত সংস্কার এবং স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন প্রয়োজন।
- 📌 সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রকে এসআরবির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সরকারের মানবাধিকার নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নেওয়া তিনটি আইনকে মানবাধিকার সুরক্ষা দুর্বল করে তুলেছে বলে অভিযোগ করেছে। সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) ক্ষমতা ও স্বাধীনতা বাড়িয়ে গুম প্রতিরোধ ও তদন্তে দুটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের নেওয়া নতুন আইনসমূহে কমিশনের স্বাধীনতা ও তদন্ত ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এইচআরডব্লিউ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হওয়া নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে প্রতিবেদন চাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই দিনে সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ পাস হয়। এই আইনে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশে থাকা কিছু ক্ষমতা বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আটককেন্দ্র পরিদর্শন ও গোপন আটকস্থল শনাক্তের মতো ক্ষমতাও রয়েছে।
পাশাপাশি, ১০ সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হওয়া ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন’ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে এইচআরডব্লিউের দাবি, নতুন আইনে র্যাবের জনবল, ক্ষমতা ও সম্পদ নতুন বাহিনীতে স্থানান্তরিত হলেও এটিকে মূলত নাম পরিবর্তন হিসেবে দেখছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, এসআরবির আইনে মানবাধিকার সুরক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাবিধান, প্রশিক্ষণ, স্বাধীন তদারকি ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা নেই।
"অতীতের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বাংলাদেশের প্রকৃত নিরাপত্তা খাত সংস্কার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে সক্ষম একটি স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন প্রয়োজন। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নজরদারি ও জবাবদিহিতা সীমিত করার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি।"
ইলেইন পিয়ারসন, এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (জাতীয় সংসদ, ঢাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইলেইন পিয়ারসন (এইচআরডব্লিউ পরিচালক), তারেক রহমান (প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ সেপ্টেম্বর (বিবৃতি প্রকাশ), ৬ সেপ্টেম্বর (মানবাধিকার আইন পাস), ১০ সেপ্টেম্বর (গুম আইন ও এসআরবি আইন পাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!