📌 হাইকোর্ট বিয়ের শর্ত ছাড়া ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা চাওয়াকে যৌতুক হিসেবে গণ্য করা বাতিল করে দিয়েছে। আসামি মো. রাসেল উদ্দিনকে খালাস দিয়েছে আদালত, মেডিকেল সাক্ষ্য ও সাক্ষ্য বৈপরীত্যের কারণে মামলা ভিত্তিহীন বলে ঘোষণা করা হয়
হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বিয়ের শর্ত ছাড়া ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা চাওয়াই যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না। কক্সবাজারের এক মামলায় আসামি মো. রাসেল উদ্দিনকে খালাস দেওয়া হয়েছে এবং নিম্ন আদালতের সাজা বাতিল করা হয়েছে। বিচারপতি মো. সেলিমের একক বেঞ্চের রায়ে মামলাটিকে ‘সাজানো ও ভিত্তিহীন’ আখ্যা দেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্যবসার জন্য টাকা চাওয়াই যৌতুক নয়: হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, বিয়ের শর্ত ছাড়া ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা চাওয়াকে যৌতুক হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
- 📌 মামলা ভিত্তিহীন: মেডিকেল সাক্ষ্য ও সাক্ষ্য বৈপরীত্যের কারণে মামলাটিকে ‘সাজানো’ বলে ঘোষণা করা হয়।
- 📌 খালাস দেওয়া আসামিকে: আসামি মো. রাসেল উদ্দিনকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার দণ্ড বাতিল করে খালাস দেওয়া হয়।
- 📌 বিয়ের পর টাকা দাবি: ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট কক্সবাজারের বাইতুশ শরফ মসজিদ রোডে আসামি স্ত্রীর কাছে ১ লাখ টাকা ব্যবসার জন্য দাবি করেন।
- 📌 মেডিকেল সাক্ষ্যের বৈপরীত্য: বাদী দাবি করেন লাঠির আঘাত পেয়েছেন ডান কাঁধে, কিন্তু মেডিকেল সনদে বাম কাঁধে আঘাতের উল্লেখ রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, যৌতুক দমন আইনের ২(ঞ) ধারা অনুযায়ী, বিয়ের শর্ত বা বিবেচনা হিসেবে বর বা বরপক্ষের দ্বারা কোনো অর্থ বা সম্পত্তি দাবি করাকেই যৌতুক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই মামলায় বাদী এবং সাক্ষীদের জবানবন্দিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামি মো. রাসেল উদ্দিনের টাকা দাবি করা হয়েছিল তার ব্যবসার প্রয়োজনে। ফলে ব্যবসার জন্য টাকা চাওয়ার বিষয়টিকে যৌতুকের সংজ্ঞার আওতায় আনা সম্ভব নয়।
২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারে মো. রাসেল উদ্দিনের সঙ্গে ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় আসামি তার ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তিনি স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে।
হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীর মৌখিক সাক্ষ্য এবং মেডিকেল সনদের মধ্যে আঘাতের স্থান সম্পর্কে স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। বাদী দাবি করেন লাঠির আঘাত পেয়েছেন ডান কাঁধে, কিন্তু মেডিকেল সনদে বাম কাঁধে আঘাতের উল্লেখ রয়েছে। এই বৈপরীত্য শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগকে গুরুতর সন্দেহের মুখে ফেলে দেয়।
"বিয়ের শর্ত ছাড়া ব্যবসার প্রয়োজনে টাকা চাওয়াকে যৌতুক হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষ যৌতুক দাবির অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার, বাইতুশ শরফ মসজিদ রোড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসামি মো. রাসেল উদ্দিন, বিচারপতি মো. সেলিম, ইসমত আরা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ টাকা, ২ বছর কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট, ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!