📌 হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পরও ঢাকার মিরপুরের ৩৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিরোধী পক্ষ। প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অভিযোগ, দেয়াল ভাঙা, গেট স্থাপন ও স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে জমি দখল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি উদ্বিগ্ন
হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পরও ঢাকার মিরপুরের গোড়ান-চটবাড়ি মৌজায় প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ৩৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিরোধী পক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি দাবি, আদালতের আদেশের পরও জোরপূর্বক দেয়াল ভাঙা, লোহার গেট স্থাপন ও স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে জমি দখল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি উদ্বিগ্ন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি নিয়ে মিরপুরের গোড়ান-চটবাড়ি মৌজায় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ লঙ্ঘন করে দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ প্রাইম ইসলামী লাইফের।
- 📌 ১ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় বিরোধী পক্ষের লোকজন জমির দেয়াল ভাঙা করে লোহার গেট স্থাপন ও জমির অংশ ঘেরাও করে।
- 📌 ২৪ সেপ্টেম্বর মো. আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুলের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন লোক জোরপূর্বক স্থায়ী দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করে।
- 📌 শাহ আলী থানা পুলিশ ও স্থানীয় ভূমি অফিসের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি উদ্বিগ্ন।
- 📌 মো. শামসুল আলম (সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর) বলেন, আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হলে বীমা গ্রাহকদের স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
📰 বিস্তারিত
প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল থাকার পরও বিরোধী পক্ষ জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শামসুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির দখলে থাকা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ আদালতে মামলা করে। আদালতের আদেশের পরও ওই পক্ষ জমিতে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
২০১৬ সালে কোম্পানিটি ৬৮০৪ ও ৬৬০৩ নম্বর দাগের মোট ৩৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি ডিআরএ-এর অনুমোদন নিয়ে কেনে। পরে নামজারি ও খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে জমিটি ভোগদখল করে আসছে বলে দাবি করা হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে জমির একটি অংশ টিভিএসের কাছে ভাড়া দেওয়া রয়েছে।
২৯ এপ্রিল মো. আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুলের নেতৃত্বে আক্তার জাহান (রাইসা সুলতানা) গংয়ের লোকজন কোম্পানির বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারায় মামলা করেন। কোম্পানির দাবি, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে সমন বা নোটিশ জারি না করেই আদালত থেকে একতরফা আদেশ দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে কোম্পানির পক্ষ থেকে মহানগর দায়রা আদালতে ফৌজদারি রিভিশন মামলা করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি হাইকোর্টে গড়ায়।
২৬ জুলাই ২০২৬ হাইকোর্ট বিভাগে মামলা করা হয়। শুনানি শেষে ২৯ জুলাই আদালত রুল জারির পাশাপাশি পরবর্তী আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পরও বিরোধী পক্ষের লোকজন ১ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় জমিতে প্রবেশ করে দেয়াল ভাঙা, লোহার গেট স্থাপন এবং বাঁশ-টিন দিয়ে জমির একটি অংশ ঘেরাও করে। ঘটনায় ৬ আগস্ট অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর মো. আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুল কয়েকজন লোক নিয়ে কোম্পানির ভাড়াটিয়া টিভিএসের শেডে প্রবেশ করেন। সেখানে স্থানীয় নিরাপত্তাকর্মী মিঠুকে এক-দুই দিনের মধ্যে স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
২২ সেপ্টেম্বর মিরপুরের শাহ আলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করে প্রতিষ্ঠানটি। এর দুই দিন পর ২৪ সেপ্টেম্বর মো. আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুলের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন লোক ও নির্মাণসামগ্রী নিয়ে জোরপূর্বক স্থায়ী দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শাহ আলী থানা পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় ভূমি অফিসেও বিষয়টি জানানো হলেও দ্রুত কোনো কার্যকর নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
"আমরা চাই, আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হোক। একই সঙ্গে ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনাসহ পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক। এ ঘটনায় শাহ আলী থানা পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, সেটিও খত..."
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর, ঢাকা (গোড়ান-চটবাড়ি মৌজা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. শামসুল আলম (সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর, প্রাইম ইসলামী লাইফ), মো. আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি, ৬৮০৪ ও ৬৬০৩ নম্বর দাগ, ২৯ এপ্রিল, ২৬ জুলাই, ২৯ জুলাই, ১ আগস্ট, ২৪ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!