📌 হাইকোর্টের রায়ে দেনমোহর আদায়ে তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। স্বামীকে অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। দেনমোহর স্ত্রীর আর্থিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত
হাইকোর্টের একটি রায়ে দেনমোহর আদায়ের ক্ষেত্রে তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, দেনমোহর স্বামীর ওপর স্ত্রীর পাওনা এবং তা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। এই রায়ে দেনমোহর আদায়ের ক্ষেত্রে বিচারিক ক্ষমতা সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাইকোর্টের রায়: দেনমোহর আদায়ে তালাক বা মৃত্যুর অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। স্বামীকে অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
- 📌 দেনমোহর: বিয়ে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত ২২ লাখ টাকা দেনমোহর আদালতে স্বীকৃত। স্বামীকে তা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
- 📌 ক্ষতিপূরণ: স্বামী যদি দেনমোহর পরিশোধে বিলম্ব করে, আদালত স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দিতে পারে।
- 📌 মামলার বিবরণ: ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিয়ে হওয়া দম্পতির মামলায় আদালত ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেনমোহর ও ভরণপোষণের নির্দেশ দিয়েছে।
- 📌 আইনজীবীর মন্তব্য: দেনমোহর কমানোর কোনো আইনি সুযোগ নেই। স্ত্রীকে মামলা করার আগে বিয়ের সময় নির্ধারিত দেনমোহরই আদায়ের অধিকারী।
📰 বিস্তারিত
হাইকোর্টের বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ ৩ সেপ্টেম্বর ‘ইয়াকুব আলী বনাম সানজিদা নাসরিন’ মামলায় রায় দিয়েছেন। এই রায়ে দেনমোহর আদায়ের ক্ষেত্রে স্বামীর কোনো বিলম্বের সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, দেনমোহর স্ত্রীর একটি আর্থিক অধিকার এবং তা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দম্পতির বিয়ে হয় ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর। বিয়ের সময় পরিবারের উপস্থিতিতে ২২ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল। স্বামী দাবি করেন যে, ব্যবসা হারানোর কারণে তিনি দেনমোহর পরিশোধ করতে পারছেন না। কিন্তু আদালত তার দাবিকে খারিজ করে দেনমোহর ও ভরণপোষণের বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে।
চট্টগ্রামের পারিবারিক আদালতে ২০২২ সালের ৫ মে একতরফা সিদ্ধান্তে স্ত্রীকে ১৮ লাখ টাকা দেনমোহর, ইদ্দতকালীন ভরণপোষণ বাবদ ৩০ হাজার টাকা এবং কন্যাশিশুর বকেয়া ভরণপোষণ বাবদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে ডিক্রির পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
স্বামী পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন, যা ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট খারিজ হয়। এরপর তিনি হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। রায়ে বলা হয়েছে, দেনমোহর কমানোর কোনো আইনি সুযোগ নেই। তবে স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় মওকুফ গ্রহণ করেন, তা বৈধ হবে যদি তা সচেতনভাবে এবং স্বাধীনভাবে করা হয়।
"দেনমোহর আদায়ের জন্য কোনো স্ত্রীকে আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়। ঘটনা বিবেচনা করে দেনমোহর পরিশোধের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও স্বামী যদি তা দিতে বিলম্ব করেন, সে ক্ষেত্রে বিচারিক আদালত স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, পারিবারিক আদালত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইয়াকুব আলী, সানজিদা নাসরিন, বিচারপতি আবদুর রহমান, আইনজীবী ইশরাত হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ লাখ টাকা (দেনমোহর), ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা (বকেয়া পরিশোধ), ২০১৪ (বিয়ের বছর), ২৯ ডিসেম্বর (বিয়ের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!