📌 হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, বিয়ের শর্ত ছাড়া শুধু ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেও তা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না। কক্সবাজারের একটি মামলায় রাসেল উদ্দিনের ২ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা রদ করে খালাস দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের একটি রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বিয়ের সময় বা সংসারজীবনে টাকা দাবি করার শর্ত ছাড়া শুধু ব্যবসার জন্য অর্থ দাবি করলেও তা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না। এই রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুধুমাত্র ব্যবসা, বিদেশ যাত্রা বা গাড়ি কেনার জন্য টাকা চাওয়া হলে তা যৌতুক আইনের আওতায় পড়ে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাইকোর্টের রায়: ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেও যদি বিয়ের শর্ত না থাকে, তাহলে তা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না
- 📌 মামলার বিবরণ: ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাসেল উদ্দিনের সাথে ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়, পরে স্বামী ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন
- 📌 প্রথম আদালতের রায়: ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর কক্সবাজার ট্রাইব্যুনালে রাসেল উদ্দিনকে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়
- 📌 হাইকোর্টের আপিল: রাসেল উদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী আল রেজা মো. আমির এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম (সুজন) উপস্থিত ছিলেন
- 📌 সাক্ষ্যপ্রমাণের বিশ্লেষণ: আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে বলেছে, যৌতুক হিসেবে টাকা দাবির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজারের একটি মামলায় হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে যে, শুধু ব্যবসার জন্য অর্থ দাবি করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ‘যৌতুকের’ সংজ্ঞায় পড়ে না। এই রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিয়ের সময় অথবা সংসারজীবনে টাকা দাবি করার শর্ত থাকলে তা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে। তবে শর্ত ছাড়া ব্যবসা, বিদেশ যাত্রা বা গাড়ি কেনার জন্য টাকা চাওয়া হলে তা যৌতুক আইনের আওতায় পড়ে না।
২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম আইন অনুযায়ী রাসেল উদ্দিনের সাথে ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করেন। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় স্বামী তাঁর ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। স্ত্রীর অভিযোগ, ওই দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী তাঁকে মারধর করেন। ওই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় অভিযোগ করেন স্ত্রী।
কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১–এর বিচারক ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় স্বামীর বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেন। ওই মামলায় বিচারক ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর রায় দেন। রায়ে স্বামীকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাসেল উদ্দিন হাইকোর্টে আপিল করেন।
হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সেলিমের একক বেঞ্চ আপিল মঞ্জুর করে রাসেলকে খালাস দিয়ে রায় দেন। ১২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। রায়ে বলা হয়েছে যে, অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন যে ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টার দিকে আপিলকারী তাঁর ব্যবসার জন্য অভিযোগকারীর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। অভিযোগকারী এই দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়।
"কনেপক্ষের কাছে শুধু ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না বলে রায়ে বলা হয়েছে। তখনই যৌতুক হবে, যদি বিয়ের সময় অথবা সংসারজীবন চলাকালে টাকা দাবি করে এবং ওই অর্থ না দিলে যদি শর্ত দেওয়া হয় যে ডিভোর্স দেওয়া হবে কিংবা সংসার চালিয়ে না নেওয়ার কথা বলা হলে।"
রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২(ঞ) ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, বিয়ের শর্ত হিসেবে বর বা তাঁর মা–বাবা কিংবা বরপক্ষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত অন্য কোনো ব্যক্তি যে টাকা, সামগ্রী বা অন্য কোনো সম্পত্তি দাবি করেন, তাকে যৌতুক বলা হয়। রায়ে আদালত বলেছেন, বর্তমান মামলায় নথিতে থাকা সাক্ষ্যপ্রমাণ মূল্যায়ন করে দেখা যায় যে আপিলকারী তাঁর স্ত্রীর কাছে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এক লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। ঘটনার সময় আপিলকারী যৌতুক হিসেবে টাকা দাবি করেছিলেন—রাষ্ট্রপক্ষ তা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং, এক লাখ টাকা দাবির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা আইনের ২(ঞ) ধারায় উল্লেখিত যৌতুকের সংজ্ঞার আওতায় পড়ে না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার, কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাসেল উদ্দিন, ইসমত আরা বেগম, বিচারপতি মো. সেলিম, আইনজীবী আল রেজা মো. আমির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম (সুজন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ বছর কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা, ১২ পৃষ্ঠার রায়, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিয়ে, ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট ঘটনা, ১৫ নভেম্বর ২০২৩ রায়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!