📌 নাটোরের লালপুরে হ্যাকিং ও ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িত কথিত ‘হ্যাকিং সম্রাট’ ওহিদুল মোল্লা ও পাঁচ জন সহযোগীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছে। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে
নাটোরের লালপুরে হ্যাকিং ও ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িত কথিত ‘হ্যাকিং সম্রাট’ ওহিদুল মোল্লা ও তার দলের পাঁচ সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নাটোরের লালপুর থানার ওহিদুল মোল্লা ও পাঁচ জন সহযোগীকে হ্যাকিং ও ডিজিটাল প্রতারণায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য মো. আলামিন (২৩)।
- 📌 ওহিদুল মোল্লা (৩২) বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আগে রাজমিস্ত্রি ও ইজিবাইক চালাতেন, পরে হ্যাকিং ও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
- 📌 ওহিদুলের বাড়িতে ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও সাতটি মুঠোফোন ও ৬৮টি সিম কার্ডের মাধ্যমে হ্যাকিং কার্যক্রম পরিচালিত হত।
- 📌 লালপুর আদালতে বিচারক সাদ্দাম হোসেনের নির্দেশে গ্রেপ্তারকৃতদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- 📌 পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওহিদুলের নেতৃত্বে এলাকায় একটি হ্যাকিং চক্র গড়ে ওঠা ছিল।
- 📌 পৃথকভাবে, হাটহাজারী মডেল থানায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইকরাম ওয়াহিদ তোহাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়া গ্রামের বাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল। বাড়ির চারপাশে ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। ঘরের ভেতরে সারাক্ষণ নজর রাখার জন্য সিসিটিভি মনিটর ছিল। এমনকি বাইরে থেকে বোঝা যেত না যে, বাড়িতে মানুষের থাকার ব্যবস্থা। ওহিদুল মোল্লা (৩২) এই বাড়িতে সাতটি মুঠোফোন ও ৬৮টি সিম কার্ড ব্যবহার করে হ্যাকিংয়ের কাজ পরিচালনা করতেন। পুলিশের অভিযান টের পেলে পালানোর ব্যবস্থাও ছিল।
ওহিদুল মোল্লা (৩২) বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের মৃত রব্বেল মোল্লার সন্তান। তিনি মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান। প্রায় পাঁচ বছর আগেও রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। পরে কিছুদিন ইজিবাইক চালিয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওহিদুল আগে চুরির অভিযোগে কয়েকবার আটক হওয়ার তথ্যও রয়েছে। সময়ের সঙ্গে হ্যাকিং ও ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিলমাড়িয়া বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদীর ধারে নতুন একটি বাড়িতে তিনি হ্যাকিং ও মাদক ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালিত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তিনি দুটি বাড়ি করেছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেছেন, বিলমাড়িয়া এলাকায় ওহিদুলকে হ্যাকিং চক্রের ‘গুরু’ হিসেবে মানতেন তাঁর সহযোগীরা। তাঁর নেতৃত্বে এলাকায় একটি হ্যাকিং চক্র গড়ে ওঠার তথ্য পুলিশ পেয়েছে। পুলিশ সদস্য মো. আলামিন (২৩) রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) কনস্টেবল। তিনি ওহিদুলের দলের সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
গত সোমবার রাতে পুলিশ ওহিদুল মোল্লা ও পাঁচ জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল মঙ্গলবার তাঁদের নাটোরের লালপুর আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক সাদ্দাম হোসেনের নির্দেশে গ্রেপ্তারকৃতদের কারাগারে পাঠানো হয়। রাত ৯টার দিকে তাঁদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
পৃথকভাবে, হাটহাজারী মডেল থানায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে ফার্মেসি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. ইকরাম ওয়াহিদ তোহাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
"বিলমাড়িয়া এলাকায় ওহিদুলকে হ্যাকিং চক্রের ‘গুরু’ হিসেবে মানতেন তাঁর সহযোগীরা। তাঁর নেতৃত্বে এলাকায় একটি হ্যাকিং চক্র গড়ে ওঠার তথ্য পুলিশ পেয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাটোর জেলা, লালপুর উপজেলা, দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন, পানসিপাড়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওহিদুল মোল্লা (৩২), মো. আলামিন (২৩), মো. ইকরাম ওয়াহিদ তোহা, বিচারক সাদ্দাম হোসেন, ওসি শফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ৬৮টি সিম কার্ড, ৫ জন গ্রেপ্তারকৃত, ২৩ বছর বয়স, ৯ টা রাত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!