📌 স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুর্নীতির দায়ে পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহাকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে। দু’জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল পাস এবং আদালতের সমন জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুর্নীতির দায়ে দু’জন সরকারি কর্মকর্তাকে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছে। পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৩ শাখা থেকে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সইয়ে দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ**: পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহ ‘খোরাকী রেশন’ খাতে সরকারি অর্থ তছরূপের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।
- 📌 **৫৭টি ভুয়া বিল**: ‘বাবা মায়ের দোয়া’, ‘নূর স্টোর’ ও ‘শুভ স-মিল’ নামের তিনটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৭টি ভুয়া বিল পাস করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
- 📌 **জালিয়াতির মাধ্যমে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা**: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা বিমান ভ্রমণের ভুয়া বিল দাখিল করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
- 📌 **বরখাস্ত ও অবসর**: দু’জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি পরায়ণতার’ প্রমাণ পাওয়ায় শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করা হয়।
- 📌 **সোনালী ব্যাংক জালিয়াতি**: আব্দুল ফাত্তাহ নিজে ৪০ লাখ টাকা জমা দেন, তবে পরবর্তীতে সোনালী ব্যাংক পঞ্চগড় শাখায় নয়টি চালানের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
📰 বিস্তারিত
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্তে উঠে আসে, পঞ্চগড় জেলা কারাগারে জেলার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন (১৭ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪) মো. আব্দুল ফাত্তাহ ‘খোরাকী রেশন’ খাতে মারাত্মক অনিয়মে জড়ান। বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত খোরাকী রেশনের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়। তদন্তে প্রমাণিত হয়, জেলা সুপারকে পাশ কাটিয়ে কারারক্ষী জাফর মাহামুদ শাকিলের মাধ্যমে ভুয়া বিল প্রস্তুত ও জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হতো।
অপরদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন আদালতের সমন ও সাক্ষ্য প্রদানের ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরি করে সরকারি অর্থ তুলে নিয়েছেন। তিনি ২০০০ সালে ৬ষ্ঠ গ্রেডে যোগদানের পর ২৩ বছরে বিমান ভ্রমণের প্রাধিকারভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও শতাধিকবার ভুয়া বিমান ভ্রমণের বিল দাখিল করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দু’জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি পরায়ণতার’ দায়ে শাস্তি প্রদান করে। দু’টি আদেশই অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
"স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৩ শাখা থেকে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সইয়ে দু’জন কর্মকর্তাকে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), পঞ্চগড় জেলা কারাগার, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আব্দুল ফাত্তাহ, ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা, মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, ৫৭টি ভুয়া বিল, ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ২৩ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!