📌 স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ৫ সরকারি কর্মীসহ সাতজনের গ্রেফতার করে। তারা ১০ লাখ টাকা করে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে পরীক্ষার্থীদের প্রতারিত করেছিল। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষায় ফাঁসের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে এসআরবি জব্দ করেছে প্রশ্নপত্রসহ বিভিন্ন দলিল
রাজধানীর একটি সরকারি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গোপন চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এর মধ্যে পাঁচজনই সরকারি দপ্তরের কর্মচারী। এসআরবি জানায়, তারা ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে প্রশ্ন ও উত্তর পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিত। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদের পরীক্ষা স্থগিত করার পর এই তথ্য উন্মোচিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ সরকারি কর্মীসহ ৭ জনের গ্রেফতার করে এসআরবি প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রের সাত সদস্যকে। তারা ১০ লাখ টাকা করে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে পরীক্ষার্থীদের প্রতারিত করেছিল।
- 📌 ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ একটি অস্পষ্ট প্রশ্নপত্র পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাকে স্পষ্ট ছবি পাঠান।
- 📌 ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করলেও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
- 📌 ১৭ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হওয়ার পর চক্রের সদস্য মফিজুল নিজেও চক্রে যুক্ত হন।
- 📌 ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, প্রশ্নপত্রের এক সেট, ২৫টি সনদপত্রসহ বিভিন্ন দলিল জব্দ করা হয়।
📰 বিস্তারিত
রাজধানীর কাওরান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, গ্রেফতারদের মধ্যে পাঁচজন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী। তাদের মধ্যে রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম এবং এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ ও কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর।
১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ একটি অস্পষ্ট প্রশ্নপত্র পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাকে স্পষ্ট ছবি পাঠান। নূর মোহাম্মদ প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। পরে চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে প্রশ্ন ও উত্তর পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, চক্রের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম চালাতেন।
১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত রাজধানীর মতিঝিল, উত্তরখান, মিরপুর-১০ ও মোহাম্মদপুর এবং সাভারে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করে এসআরবি। গ্রেফতারদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও চ্যাট পর্যালোচনা করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সময় ও বিতরণপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযানে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, প্রশ্নপত্রের এক সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, ২৫টি সনদপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা, একটি ব্যাংক চেক, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র, আটটি মোবাইল ফোন এবং চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
"প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নূর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার দাবি করেছেন। তবে তাদের দেওয়া তথ্য এখনো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী, কাওরান বাজার (এসআরবি মিডিয়া সেন্টার), মতিঝিল, উত্তরখান, মিরপুর-১০, মোহাম্মদপুর, সাভার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন, মো. রুবেল ইসলাম, মো. মফিজুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, জাহাঙ্গীর, এস এম ইমদাদুল ইসলাম, আসাদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ (সরকারি কর্মী), ৭ (গ্রেফতারকৃত), ১০ (লাখ টাকা), ২৪২ (পরীক্ষার শূন্যপদ), ৩ লাখ ১৯ হাজার (চাকরিপ্রার্থী), ১৭ লাখ (প্রতারিত অর্থ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!