📌 গোপন আস্তানায় রাতভর প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করানো হতো সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের। সাভারের রিসোর্ট থেকে শুরু করে ঢাকার এনজিও ডরমিটরিতে এই অপারেশন চালানো হতো। ফাঁস প্রশ্নের টাকা দিয়ে ব্যবসা করতেন চক্রের সদস্যরা
গোপন আস্তানায় রাতভর প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করানো হতো সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের। ঢাকার বিলাসবহুল রিসোর্ট থেকে শুরু করে বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) ডরমিটরি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে এই অপারেশন চালানো হতো। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যদের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় ‘মেহমান’ পরিচয়ে পরীক্ষার্থীদের আটকিয়ে রাখা হতো এবং তাদেরকে প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করতে বাধ্য করা হতো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘মেহমান’ পরিচয়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের রাতভর আটকিয়ে রাখা হতো প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করতে
- 📌 সাভারের পালমিরা রিসোর্টে ৪৪ জন পরীক্ষার্থীকে ২০২৪ সালের ৫ জুলাই রাতভর রাখা হয় এবং প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করানো হয়
- 📌 এনজিওর ডরমিটরিতে ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল ৪ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা খরচে পরীক্ষার্থীদের রাখা হয়
- 📌 প্রশ্নপত্র ফাঁসের টাকা দিয়ে ব্যবসায়ী সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম একাধিক ব্যবসা শুরু করেন
- 📌 ফিল্টার ব্যবসায়ী মো. সাখাওয়াত হোসেন ও তাঁর ভাই সাইম হোসেন প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রে জড়িত ছিলেন
📰 বিস্তারিত
গোপন প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যদের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় ‘মেহমান’ পরিচয়ে পরীক্ষার্থীদের আটকিয়ে রাখা হতো। প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রের সদস্য আবু সোলেমান মো. সোহেলের ফোনে ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল ১১টা ৩৮ মিনিটে প্রার্থীদের প্রতি কড়া নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ‘কেউ শু বা কেডস পরে আসবে না। কোনো ঘড়ি বা মানিব্যাগ নিয়ে আসবে না। শুধু অ্যাডমিট কার্ড ও কলম নিয়ে আসতে হবে। মোবাইল ফোন পাইলে কঠোর শাস্তি হবে।’
সাভারের পালমিরা রিসোর্টে ২০২৪ সালের ৫ জুলাই বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার আগে ৪৪ জন পরীক্ষার্থীকে আটকিয়ে রাখা হয়েছিল। রিসোর্টের ভেতরে অস্থায়ী বুথ বানিয়ে তাদেরকে টানা দুই দিন রাখা হয় এবং প্রশ্নের উত্তরসহ ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। সারা রাত মুখস্থ করানোর পর পরীক্ষার দিন ভোরে তাদেরকে নিজ নিজ কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শাওন বিশ্বাস নামের এক পরীক্ষার্থীর চাচা সনৎ কুমার বিশ্বাস জনতা ব্যাংকের পাগলাপুর শাখা থেকে আবেদ আলীর হিসাবে ছয় লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। শাওন ও সনৎ দুজনই এই বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি দিয়েছেন।
এনজিওর ডরমিটরিতে রাতভর মহড়া চক্রের আরেক সদস্য মো. আল মামুন চাকরিপ্রার্থীদের রাখার জন্য ঢাকার মোহাম্মদপুরের দুটি প্রতিষ্ঠিত এনজিওর আবাসন বেছে নিয়েছিলেন। একটির নাম পদক্ষেপ, অন্যটির নাম ইউএসটি। ইউএসটির আবাসন থেকে ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর), বিশেষ রেজিস্টার, অগ্রণী ব্যাংকের জমা স্লিপ এবং টাকা জমার রসিদ জব্দ করে সিআইডি। সেখানে ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিলের একটি রসিদ পাওয়া যায়, যেখানে পরীক্ষার্থীদের এক রাতের থাকা ও খাবারের বিল বাবদ ৪ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল।
ফিল্টারের গুদামে ৪২ জন পরীক্ষার্থী তদন্তে মো. সাখাওয়াত হোসেন ও তাঁর ভাই সাইম হোসেনের ভূমিকা চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। সাখাওয়াত পেশায় ফিল্টার ব্যবসায়ী আর ছোট ভাই সাইম তাঁকে সহযোগিতা করতেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের টাকা দিয়ে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম নিজের ও বেনামে একাধিক ব্যবসা শুরু করেন এবং বিপুল সম্পদের মালিক হন।
"কেউ শু বা কেডস পরে আসবে না। কোনো প্রকার ঘড়ি পরে আসবে না। মানিব্যাগ বা ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে আসবে না। কিছু টাকা হাতে অথবা পকেটে নিয়ে আসবে তাদের যাতায়াত ভাড়া বাবদ। শুধু অ্যাডমিট কার্ড ও কলম সাথে নিয়ে আসবে। মোবাইল ফোন পাইলে কঠোর শাস্তি হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সাভার পালমিরা রিসোর্ট, মোহাম্মদপুরের এনজিও ডরমিটরি, ফিল্টার ব্যবসার গুদাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু সোলেমান মো. সোহেল, শাওন বিশ্বাস, সনৎ কুমার বিশ্বাস, রতন মাতুব্বর, সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম, মো. আল মামুন, মো. সাখাওয়াত হোসেন, সাইম হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৪ জন পরীক্ষার্থী (রিসোর্টে), ৪ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা (এনজিওর খরচ), ২০২৪ সালের ৫ জুলাই (রেলওয়ে পরীক্ষা), ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল (এনজিওর রসিদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!