📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ইউএনওর সরকারি গাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সাবেক মেয়রসহ ৭৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে প্রায় ১.৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ইউএনওর সরকারি গাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় রহনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়রসহ ৭৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, হামলায় সরকারি গাড়ির প্রায় ১.৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬ অক্টোবর রাতে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমানের সরকারি গাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
- 📌 সাবেক মেয়র মতিউর রহমান খানসহ ৭৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, অন্যদের বিরুদ্ধে ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
- 📌 হামলায় সরকারি গাড়ির পাশের কাচ, রাবার ও বিভিন্ন স্থানে আঘাত-ফুটো লাগে, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১.৫ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
- 📌 ৬ অক্টোবর রাত সোয়া ৯টায় ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহনপুর রেলস্টেশনের কেডিসি পাড়ায় যান, সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে হামলা হয়।
- 📌 হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গাড়ির পথরোধ করে, এরপর গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
- 📌 সাম মোহাম্মদ মারিল (৪৫) নামের ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়, তিনি গুরুতর আহত হয়ে গাড়ির সামনে পড়ে যান।
📰 বিস্তারিত
গত ৬ অক্টোবর রাত সোয়া ৯টায় গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহনপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন কেডিসি পাড়ায় যান। তারা সেখানে আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির লোকজনের সঙ্গে মাদক ও দেহব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েছিলেন। এছাড়াও, বধ্যভূমির সামনে প্রধান সড়কের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য জায়গা পরিদর্শন করতে যান।
সেখানে দুই পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়ার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গালাগালি করেন এবং সরকারি কাজে বাধা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইউএনওর নির্দেশে তারা সরকারি গাড়িতে উপজেলা পরিষদের উদ্দেশে রওনা হন। রাত পৌনে ১০টার দিকে কেডিসি পাড়া বধ্যভূমির সামনে সাম মোহাম্মদ মারিল (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করতে দেখেন। তিনি গুরুতর আহত হয়ে গাড়ির সামনে পড়ে যান এবং সরকারি গাড়িতে তুলে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এরপর রহনপুর বিজিবি ক্যাম্পের ফটক পার হয়ে ক্যাম্পের সীমানাপ্রাচীরের শেষ প্রান্তে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সরকারি গাড়ির পথরোধ করেন। এ সময় তারা গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে গাড়ির পাশের কাচ ও রাবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও ফুটো লাগে। এতে প্রায় ১.৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এ সময় কেডিসি পাড়ায় গেলে বা বধ্যভূমির সংযোগ সড়কের কাজ করা হলে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলিম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. সোহেল রানাসহ কয়েকজনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
"এ ঘটনায় আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেছেন, এ ঘটনায় আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোমস্তাপুর উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাবেক মেয়র মতিউর রহমান খান, মো. জিল্লুর রহমান (ইউএনও), সাম মোহাম্মদ মারিল (৪৫), মো. রাসেল আলী (গাড়িচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৯ জন আসামি (সাবেক মেয়রসহ), ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি, ১.৫ লাখ টাকা ক্ষতি, ৬ অক্টোবর রাত সোয়া ৯টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!