📌 গাজীপুর টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ পাল্টা মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, শিশুর অভিভাবক ১০-১৫ জনের সঙ্গে মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে আঘাত ও টাকা লুট করেছেন
গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি মাদ্রাসা শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার জের ধরে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ পাল্টা মামলা দায়ের করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শিশু নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- 📌 পাল্টা মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দাবি করেছেন, শিশুর অভিভাবক ১০-১৫ জনের সঙ্গে মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর ও ১৭ লাখ টাকা লুট করেছেন।
- 📌 হামলায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের মারধর, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পৃথক মামলা দায়ের করেছে।
- 📌 সিসিটিভি প্রমাণ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, জমি কেনার জন্য রাখা ১৭ লাখ টাকা লুটের সিসিটিভি ফুটেজ তাদের কাছে রয়েছে।
- 📌 শিশুর অভিভাবক বলেছেন, তিনি মাদ্রাসায় শিশুর বিচার চাইতে গিয়েছিলেন, মব সৃষ্টি করতে নয়। তিনি দাবি করেছেন, কাচের গ্লাস ভেঙে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি ছিলেন।
📰 বিস্তারিত
গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত ক্বারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় সাত বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে খণ্ডকালীন শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশুর অভিভাবক গত শুক্রবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। আদালত মোসলেম উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, শিশুর অভিভাবক ১০-১৫ জনের সঙ্গে মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে স্ট্যাপলার দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করেন। এ সময় অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীদেরও মারধর করা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, জমি কেনার উদ্দেশ্যে গচ্ছিত রাখা ১৭ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে, যার সিসিটিভি ফুটেজ তাদের কাছে রয়েছে।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মাওলানা ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী বলেছেন, মোসলেম উদ্দিন একজন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক সম্মান শেষ বর্ষের ছাত্র। তিনি মাত্র তিন ঘণ্টা খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নিতেন। অধ্যক্ষের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের এনে মাদ্রাসায় হামলা চালানো হয়েছে।
শিশুর অভিভাবক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমি শুধু আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি মব সৃষ্টি করেছি। কিন্তু সেখানে থাকা লোকজন আমাকে মারল না কেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি, কাচের গ্লাস ভেঙে গেছে। এর ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদ্রাসায় এত টাকা কীভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার।’
"আমি আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি। আমি মব সৃষ্টি করলে সেখানে থাকা লোকজন আমাকে মারল না কেন?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টঙ্গী, গাজীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোসলেম উদ্দিন (শিক্ষক), মাওলানা ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন (অধ্যক্ষ), শিশুর অভিভাবক, ওসি আরিফুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ লাখ টাকা (লুট), ১০-১৫ জন (অভিভাবকের সঙ্গী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!