📌 গাইবান্ধায় মাদক টাকার বিনিময়ে ১৩ মাস বয়সী শিশু বিক্রির অভিযোগে বাবা হামিদুল মিয়া সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, বাবা শিশুটিকে বিক্রি করে ৩১ হাজার টাকা পেয়েছিলেন
গাইবান্ধায় মাদক টাকার বিনিময়ে ১৩ মাস বয়সী শিশু বিক্রির অভিযোগে বাবা হামিদুল মিয়া সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধায় মাদক টাকার বিনিময়ে ১৩ মাস বয়সী শিশু বিক্রির অভিযোগে বাবা হামিদুল মিয়া, বাসের হেলপার মজিদ, মোছা. মোরশেদা ও সোলেমান চৌকিদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে
- 📌 ১৭ জুলাই বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে মাদক টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়
- 📌 শিশুটিকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার কথা ছিল, কিন্তু বাবা হামিদুল মিয়া ৩১ হাজার টাকা পেয়েছিলেন
- 📌 শিশু ফাতেমা জান্নাতকে ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকায় সোলেমান চৌকিদারের বাড়িতে উদ্ধার করা হয়
- 📌 মাদক টাকার বিনিময়ে শিশু বিক্রির অভিযোগে পুলিশের অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় চারজনকে
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রবিবার গাইবান্ধা ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে সারবাজার এলাকা থেকে শিশুটির বাবা হামিদুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ছোট ওমরপুর এলাকায় বাসের হেলপার মজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকায় মোরশেদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া ছলের মোড় এলাকায় সোলেমান চৌকিদারের বাড়িতে ১৩ মাস বয়সী শিশু ফাতেমা জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ জুলাই বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে মেয়ে ফাতেমাকে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন বাবা হামিদুল। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার দুদিন পর হামিদুল মুঠোফোনে স্ত্রী রুমানা আক্তারকে জানান, ১০ হাজার টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হবে। আর্থিক সংকটের কারণে রুমানা ওই টাকা দিতে পারেননি। পরে হামিদুল মুঠোফোন বন্ধ করে দেন। সন্তানকে ফিরে পেতে রুমানা আদালতে মামলা করেন এবং পুলিশের দ্বারস্থ হন।
শিশুটিকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার কথা ছিল, কিন্তু বাবা হামিদুল মিয়া ৩১ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুলের সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাদকের টাকা জোগাড় করা নিয়ে হামিদুল স্ত্রীকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। সন্তান জন্মের পর পরিস্থিতির অবনতি হলে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান রুমানা।
"আজ আমার কোল ভরি গেল, যারা আমার স্বামীর কাছে থেকে আমার সন্তানকে কিনে নিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।"
পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পুলিশের কাছে অভিযোগ আসার পর জেলা ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল কাজ শুরু করে। আসামিরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করার কারণে কিছু বেগ পেতে হলেও তাদের গ্রেপ্তার করে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হাজির করা হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাইবান্ধা জেলা, সারবাজার, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা, ফুলছড়ি উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হামিদুল মিয়া, রুমানা আক্তার, পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন, মজিদ, মোছা. মোরশেদা, সোলেমান চৌকিদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ মাস (শিশুর বয়স), ১৭ জুলাই (শিশু নিয়ে যাওয়া তারিখ), ১০ হাজার টাকা (বিক্রির শর্ত), ৪০ হাজার টাকা (বিক্রির মূল্য), ৩১ হাজার টাকা (বাবা পেয়েছেন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!