📌 ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে প্রশিক্ষণার্থী নার্স বীথি আক্তার মারা যান। মৃত্যুর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে ৫৫ হাজার টাকার আপস চুক্তি করা হয়। তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম জানান, আর্থিক সংকট ও ভবিষ্যতের চাকরি বিবেচনা করে মীমাংসা করা হয়
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে প্রশিক্ষণার্থী নার্স বীথি আক্তার মারা যান। মৃত্যুর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে ৫৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে আপস চুক্তি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নথিতে বীথির স্বামী রাকিবুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুর মেডিকেলে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় বীথি আক্তারের পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয়, পরে সংক্রমণে মৃত্যু
- 📌 মৃত্যুর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে ৫৫ হাজার টাকার আপস চুক্তি করা হয়, নথিতে আইনি ব্যবস্থা এড়ানোর কথা উল্লেখ
- 📌 বীথি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার জামতলার হাটের জ্যেতিনবর্দিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন, ফরিদপুর শহরের নার্সিং কলেজে শিক্ষার্থী
- 📌 প্রথম অস্ত্রোপচার ৬ মে, দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার ১৫ জুলাই, মৃত্যু ৮ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেলে
- 📌 হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ফমেক) সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় বীথি আক্তারের পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে তার মৃত্যু হয়েছে। বীথি ৬ মে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক তামান্না আক্তার ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দু। অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে বীথির শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। প্রথমে চিকিৎসক তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে দুটি বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রামে পেটে গজ কাপড় থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
১২ জুলাই বীথিকে ফমেক হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ১৫ জুলাই দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার করা হয়, সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল হক শোভন ও সঞ্জয় সাহা তাঁর পেট থেকে গজ বের করেন। তবে দীর্ঘদিন পেটের ভেতর গজ থাকায় সংক্রমণ দেখা দেয়। দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের পরই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো হয়। ওই রাতেই পরিবারের সঙ্গে আপস-মীমাংসা করা হয়।
বীথির স্বামী রাকিবুল ইসলাম জানান, ‘আমার স্ত্রী মেডিকেলেই কাজ করতেন। ভবিষ্যতে এই হাসপাতালেই ইন্টার্নিসহ চাকরি করতে হতো। এ ছাড়া ওই মুহূর্তে আমার আর্থিক সংকটও ছিল। সব মিলিয়ে আমার স্ত্রীর জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মীমাংসা করি।’ তিনি বলেন, ‘আমাকে সবাই ব্লেম দিচ্ছে, যেটি আমিও মেনে নিতে পারছি না। তবে আইনি জটিলতা এড়িয়ে আমি ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাই।’
হাসপাতালের উপপরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু জানান, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের টাকা দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার কথা শুনেছি। বীথির চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।’
"বীথির চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছে কি না, তা তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কমিটির প্রধান করা হয়েছে সার্জারি বিভাগের প্রধান স্বপন কুমার বিশ্বাসকে। তদন্ত কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বীথি আক্তার রাজবাড়ীর, রাকিবুল ইসলাম, তামান্না আক্তার, ফজলুল হক শোভন, সঞ্জয় সাহা, মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু, স্বপন কুমার বিশ্বাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ হাজার টাকা, ৬ মে, ১২ জুলাই, ১৫ জুলাই, ২২ জুলাই, ২০ সেপ্টেম্বর, ৪ অক্টোবর, ৮ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!