📌 ফরিদপুরের সালথায় বিএনপি কর্মী জামু রহমান ফকিরের হত্যার বিচার চাইতে তার স্ত্রী রুপা বেগম তিন মাসের সন্তান কোলে নিয়ে আদালত চত্বরে মানববন্ধনে অংশ নেন। আসামিরা জামিনে এসে বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে
ফরিদপুরের সালথায় বিএনপি কর্মী জামু রহমান ফকিরের (৩৮) হত্যার বিচার চাইতে তার স্ত্রী রুপা বেগম তিন মাসের সন্তান কোলে নিয়ে আদালত চত্বরে মানববন্ধনে অংশ নেন। আসামিরা জামিনে এসে বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুরের সালথা থানায় বিএনপি কর্মী জামু রহমান ফকিরের (৩৮) হত্যার বিচার চাইতে তার স্ত্রী রুপা বেগম তিন মাসের সন্তান কোলে নিয়ে আদালত চত্বরে মানববন্ধনে অংশ নেন।
- 📌 নিহতের বড় ছেলে মো. রুমন ফকির (২২) বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
- 📌 মামলার ২ নম্বর আসামি সিদ্দিক মাতুব্বর জামিনে এসে রুপা বেগমকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং মামলা তুলে নেওয়ার চাপ দিচ্ছেন।
- 📌 আদালত ৭ জন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে ২ জনকে জামিন দিয়েছে। অন্য পাঁচজন পুনরায় জামিন পেয়েছেন।
- 📌 স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক ফকিরের পরিকল্পনাতেই জামুকে হত্যা করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের কুমারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা জামু রহমান ফকির (৩৮) গত ২৫ জুন রাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে হাত-পায়ের রগ কাটা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মো. রুমন ফকির (২২) বাদী হয়ে সালথা থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সালথা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ রায় জানান, মামলায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে অন্য আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে ৪২ দিনের জামিন পেয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ১৩ সেপ্টেম্বর নয়জন আসামি নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাঁদের মধ্যে সাতজনের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান এবং মামলার ১ নম্বর আসামি আব্দুর রউফ মোল্যা ও ২ নম্বর আসামি সিদ্দিক মাতুব্বরকে জামিন দেন। অন্য পাঁচজন পুনরায় উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন।
রুপা বেগম বলেন, ‘আমার তিন মাসের সন্তানকে নিয়ে এখন কোথায় যাব, কার কাছে বিচার চাইব? যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, তারা জামিনে এসে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ আপার কাছে বিচার চাই।’ তিনি অভিযোগ করেন, মামলার ২ নম্বর আসামি সিদ্দিক মাতুব্বর জামিনে এসে তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আরও অভিযোগ করেন, সিদ্দিক মাতুব্বর জামিনে এসে সাক্ষীদের ডেকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিচ্ছেন। পাশাপাশি বাদীর পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম সাঈদ বলেন, ‘জামু জন্মগতভাবেই বিএনপিকে ভালোবাসতেন। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক ফকির জামুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে আমরা মনে করি। তাঁর পরিকল্পনাতেই রাতে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’
"আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ আপার কাছে বিচার চাই। আমার স্বামীকে যেভাবে কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আমি হত্যাকারীদের শাস্তি দেখে যেতে চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর জেলা, সালথা উপজেলা, যদুনন্দী ইউনিয়ন, কুমারকান্দা গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুপা বেগম (নিহতের স্ত্রী), মো. রুমন ফকির (নিহতের বড় ছেলে), সিদ্দিক মাতুব্বর (মামলার ২ নম্বর আসামি), ইন্দ্রজিৎ রায় (পুলিশ পরিদর্শক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮ (জামু রহমান ফকিরের বয়স), ২২ (মো. রুমন ফকিরের বয়স), ১৪ (মামলায় আসামির সংখ্যা), ১০ (অজ্ঞাতনামা আসামি), ৪২ (জামিনের দিন), ৭ (জামিন বাতিল), ২ (জামিন পেয়েছেন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!