📌 ফেনীর একটি আবাসিক হোটেলের টয়লেটে গ্যাস চুলায় চিনি জ্বালিয়ে ভেজাল মধু তৈরি করে বাজারে বিক্রি করত একটি চক্র। পুলিশ অভিযানে গ্রেপ্তার করে চার সদস্যকে। হোটেলের মালিক জানেননি এই অপকর্মের কথা।
ফেনীতে একটি আবাসিক হোটেলের টয়লেটে গোপনে গ্যাস চুলা বসিয়ে চিনি জ্বালিয়ে ভেজাল মধু তৈরি করে বাজারে বিক্রি করত একটি অপরাধী চক্র। পুলিশের অভিযানে এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হোটেলের মালিক ও কর্মচারীরা এই অপকর্মের কোনো ধারণা রাখেননি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফেনীর 'হোটেল ট্যুরিস্ট আবাসিক'-এ টয়লেটে ৮ বছর ধরে চিনি জ্বালিয়ে ভেজাল মধু তৈরি হতো
- 📌 প্রতি দিন ২ কেজি মধু ও ১০ কেজি চিনি মিশিয়ে ১২ কেজি ভেজাল মধু তৈরি হতো
- 📌 গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায়; তাদের মধ্যে ৩৮ জন সদস্য ছিল
- 📌 হোটেলের ব্যবস্থাপক জানেননি এই অপকর্মের কথা
- 📌 গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা: মোহাম্মদ মহসিন (৪৫), মেহেদী হাসান (৪০), মোহাম্মদ রাসেল (৩৮), জসিম উদ্দিন (৪০)
📰 বিস্তারিত
ফেনী শহরের বড় মসজিদ রোডে অবস্থিত 'হোটেল ট্যুরিস্ট আবাসিক'-এ গত রোববার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই হোটেলের ছয়তলা ভবনের একটি কক্ষের টয়লেটে গোপনে গ্যাসের চুলা বসিয়ে চিনি জ্বালিয়ে ভেজাল মধু তৈরি করা হতো। এই অপকর্মের কথা জানেননি হোটেলের মালিক ও কর্মচারীরা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ মহসিন (৪৫), মেহেদী হাসান (৪০), মোহাম্মদ রাসেল (৩৮) ও জসিম উদ্দিন (৪০)। তাদের সবার বাড়ি কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্রের সদর দপ্তর ছিল কুমিল্লার সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া এলাকায়। মোট ৩৮ জন সদস্য নিয়ে এই চক্র কাজ করতো, যার মধ্যে ২৪ জন পাঁচগাছিয়া এলাকায় এবং বাকি ১৪ জন এই হোটেলে অবস্থান করতেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের মূল হোতা মোহাম্মদ মহসিন জানিয়েছেন, বাজারে প্রতি কেজি মধুর দাম থাকে ১ হাজার ২০০ টাকা। সাধারণ ক্রেতাদের কম দামে মধু কেনার আগ্রহ থাকায় তারা ২ কেজি মধু ও ১০ কেজি চিনি মিশিয়ে ১২ কেজি ভেজাল মধু তৈরি করতেন। এই ভেজাল মধুকে 'খাঁটি মধু' বলে বাজারে বিক্রি করা হতো।
হোটেলের ব্যবস্থাপক রুস্তম আলী বলেছেন, 'পুলিশ যাঁদের গ্রেপ্তার করেছে, তাঁরা দীর্ঘ আট বছর ধরে আমাদের হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। আমরা তাঁদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলে মনে করতাম। তবে তাঁদের ব্যবসা সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। টয়লেটের ভেতরে এমন অপকর্ম চলছিল, তা আমরা কখনো জানতাম না।'
"একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিনি জ্বালিয়ে ভেজাল মধু তৈরি করে সাধারণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে এই চক্র। সহজ মানুষেরা এসব মধু কিনে প্রতারণা ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছেন।"
— স্থানীয় বাসিন্দা নুর নবী জীবন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফেনী শহর, বড় মসজিদ রোড, 'হোটেল ট্যুরিস্ট আবাসিক'
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ মহসিন (৪৫), মেহেদী হাসান (৪০), মোহাম্মদ রাসেল (৩৮), জসিম উদ্দিন (৪০)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ বছর (অপকর্মের সময়কাল), ৩৮ জন (চক্রের সদস্য), ১২ কেজি (দৈনিক ভেজাল মধু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!