📌 ঢাকার পল্লবী ও বনানী এলাকায় দুটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচার ও তহবিল সংগ্রহের অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল (৪৭) ও লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরাকে (৪৩) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অভিযোগে তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
ঢাকার পল্লবী ও বনানী এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল (৪৭) ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে (৪৩) সরকারবিরোধী প্রচার, অর্থায়ন ও সংগঠিত তৎপরতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। অভিযানকালে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পক্ষে ডিজিটাল উসকানি প্রচার ও তহবিল সংগ্রহের সাথে জড়িত ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ("বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা নম্বর #১" ও "বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি")-এর মাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচার ও অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন বিজয় দেবাশীষ ও কাজী গুলশান আরাকে।
- 📌 দুটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ("ইউনিটি কেয়ার" ও "পাবলিক পার্লামেন্ট")-এর মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের পলাতক নেতাদের সাথে যোগাযোগের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
- 📌 ১০১ জন সহযোগীকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে।
- 📌 ২০১৮ সালের গণভবন ঘটনা ও পরবর্তীকালে গঠিত "বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ" কমিটির সাথে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়।
- 📌 চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম। পুলিশের রিমান্ড আবেদনে তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
📰 বিস্তারিত
রোববার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পল্লবী ও বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা দুজনের গ্রেপ্তার করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন। তাদের কার্যক্রমের মধ্যে ছিল সরকারবিরোধী প্রচার, অর্থ সংগ্রহ ও সংগঠিত তৎপরতা। পুলিশের অভিযোগ, তারা দুজন 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা নম্বর #১' ও 'বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি' নামের দুটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করতেন এবং সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতায় উসকানি দেওয়ার মতো ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে প্রচার করতেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা 'ইউনিটি কেয়ার' ও 'পাবলিক পার্লামেন্ট' নামের দুটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের পলাতক নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। এছাড়া, ২০১৮ সালের গণভবন ঘটনার পর তারা 'বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ' নামে একটি কমিটি গঠন করেন। এই কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
সোমবার বিকেলে আদালতে হাজির করে পুলিশ তাদের চার দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন। রিমান্ড শুনানিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এই দুই সাবেক কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীরা সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। এছাড়া, দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের সাথে তাদের যোগাযোগ থাকারও অভিযোগ রয়েছে।
"২০১৮ সালের গণভবনে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত 'বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ' কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মহানগর (পল্লবী ও বনানী এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল (৪৭), কাজী গুলশান আরাকে (৪৩), ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০১ জন সহযোগী, ৪৭ বছর (বিজয় দেবাশীষ), ৪৩ বছর (গুলশান আরাকে), চার দিনের রিমান্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!