📌 বেকার যুবক ও নারীদের থেকে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা নেওয়া হলেও ইউরোপে পাঠানো হয়নি। মানব পাচার চক্রের ‘মূল হোতা’ মোহাম্মদ আরজুর রহমান (৪৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসআরবি জানায়, দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
বেকার যুবক ও নারীদের থেকে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা নেওয়া হলেও ইউরোপে পাঠানো হয়নি। বরং তাদের নির্যাতনের শিকার করা হতো। এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১-এর সদস্যরা গতকাল সোমবার রাজধানীর বনানী এলাকায় মানব পাচার চক্রের ‘মূল হোতা’ মোহাম্মদ আরজুর রহমানকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছেন। এনএসআইয়ের তথ্য ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৪০ লাখ টাকা নেওয়া হলেও ইউরোপে পাঠানো হয়নি** — বরং নির্যাতনের শিকার করা হতো বেকার যুবক ও নারীদের।
- 📌 **মোহাম্মদ আরজুর রহমান (৪৭) গ্রেপ্তার** — ১২ বছর ধরে মানব পাচার ও প্রতারণার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
- 📌 **দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রতারণার শিকার** — এসআরবি জানায়, ভুক্তভোগীদের মধ্যে নারীসহ পারভেজ, ফিরোজ ও মেহেদী হাসানসহ অন্তত ৩০০ জনেরও বেশি।
- 📌 **৮৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়** — ভিসা দেখিয়ে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে নেওয়া হয়েছিল।
- 📌 **নারীদের নির্যাতনের অভিযোগ** — বিদেশে পাঠানোর পর অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হতো, রাজি না হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
- 📌 **মিসরে আটকে ৫ জন নারী** — এখনো তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে।
- 📌 **২০২৫ সাল থেকে ২২৩ জন গ্রেপ্তার** — মানব পাচারের অভিযোগে এসআরবি ও র্যাবের তদন্তে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, আরজুর রহমান ১২ বছর ধরে অবৈধভাবে বিদেশে লোক পাঠানোর ও মানব পাচারের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় লাইসেন্সবিহীন এজেন্সির নাম ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের প্রতারণা করতেন। এসআরবি জানায়, ‘আরজু ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ ও ‘নাফিস এয়ার ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
গত ১৬ জুলাই, মানব পাচার চক্রটির প্রতারণার শিকার কামরুন নাহার সহায়তা চেয়ে এনএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তদন্তে উঠে আসে, পারভেজ, ফিরোজ ও মেহেদী হাসানসহ কয়েকজনকে ইউরোপে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। ভিসা দেখিয়ে সার্বিয়া ও বেলারুশ হয়ে ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি প্রথমে ভুক্তভোগীদের এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠাতো। এরপর নেপাল বা শ্রীলঙ্কা হয়ে মিসর বা লিবিয়ায় পাঠানো হতো। সেখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা করা হতো। কেউ কেউ কৌশলে দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও কেউ কেউ বিদেশে আটকে পড়েন।
আরজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ভুক্তভোগী এসআরবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে দেশে ফিরেছেন। এছাড়া এনএসআইয়ের সঙ্গে আরও প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগীর যোগাযোগ রয়েছে। বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে এসআরবির প্রাথমিক ধারণা, এই চক্রের মাধ্যমে প্রতারণা ও মানব পাচারের শিকার বাংলাদেশির সংখ্যা দুই হাজারের বেশি হতে পারে।
এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদেশে নেওয়ার পর কোনো কোনো নারীকে অনৈতিক কাজে যুক্ত হতে বাধ্য করা হতো। রাজি না হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে এসআরবি জানিয়েছে, কোনো কোনো নারীকে জিম্মি করে রাখা, মারধর করা এবং সিগারেট দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। মিসরে থাকা কয়েকজন ভুক্তভোগী সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে ভিডিও বার্তায় নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। এখনো মিসরে আটকে রয়েছে কয়েকজন নারী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলছে।
"দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রতারণা ও পাচারের শিকার হয়েছে। আরজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ভুক্তভোগী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।" — লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর বনানী এলাকা, সার্বিয়া, বেলারুশ, ইতালি, মিসর, নেপাল, শ্রীলঙ্কা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আরজুর রহমান (৪৭), লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, কামরুন নাহার, পারভেজ, ফিরোজ, মেহেদী হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ লাখ টাকা, ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা, ৪৭ বছর, ১২ বছর, ২২৩ জন, ৮৫ লাখ টাকা, ৩০০+ ভুক্তভোগী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!