📌 ইউরোপে চাকরির নামে প্রত্যেক ভুক্তভোগীকে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা প্রতারণা করে মানবপাচারকারী চক্রের প্রধান মোহাম্মদ আরজু রহমানকে এসআরবি গ্রেপ্তার করেছে। এসআরবি জানায়, এই চক্রের মাধ্যমে দুই হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শিকার হয়েছেন
ইউরোপে চাকরির নামে প্রত্যেক ভুক্তভোগীকে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা প্রতারণা করে মানবপাচারকারী চক্রের প্রধান মোহাম্মদ আরজু রহমানকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৪ ও এসআরবি-১-এর যৌথ দল গ্রেপ্তার করেছে। এসআরবি জানায়, এই চক্রের মাধ্যমে দুই হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি প্রতারণা ও মানব পাচারের শিকার হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মোহাম্মদ আরজু রহমান**কে ২৮ সেপ্টেম্বর বনানী এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়, তিনি ১২ বছর ধরে মানব পাচারের সাথে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ
- 📌 **২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা প্রত্যেক ভুক্তভোগীকে** প্রতারণা করে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হতো
- 📌 **৩০ থেকে ৩৫ জন ভুক্তভোগী** আরজু রহমান গ্রেপ্তারের পর এসআরবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, আরো প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে
- 📌 **কামরুন নাহার** মিশরে এবং **আঞ্জুমান আরা** শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়েছিল, তারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন
- 📌 **আরজু ইমিগ্রেশন লিমিটেড** ও **নাফিস এয়ার ইমিগ্রেশন লিমিটেড** নামে লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে মানব পাচার চালাতেন
- 📌 **১ কোটি ৭০ লাখ টাকা** লেনদেনের রেকর্ড পাওয়া গেছে আরজুর একটি ব্যাংক হিসাব থেকে
- 📌 **২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত** এসআরবি অভিযানে ২২৩ জন মানব পাচারকারী গ্রেপ্তার করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৪ অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরজু রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, গত ১৬ জুলাই মানবপাচার চক্রের প্রতারণার শিকার কামরুন নাহার নামের এক নারী এনএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তদন্তে জানা যায়, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কামরুন নাহার, ফাতেমা, আঞ্জুমান আরা, পারভেজ, ফিরোজ ও মেহেদী হাসানসহ একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, তিনজন ভুক্তভোগী কৌশলে দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যরা বিভিন্ন দেশে আটকা পড়েছেন। মিশরে অবস্থানরত কয়েকজন নারী পালিয়ে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পরিবারের কাছে নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন। এসআরবি জানায়, আরজু রহমানের ব্যাংক হিসাবের গত এক বছরের বিবরণীতে ১ কোটি ৭০ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসআরবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরজু রহমান প্রায় ১২ বছর ধরে অবৈধভাবে বিদেশে লোক পাঠানো ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
এসআরবি জানায়, চক্রটি বেকার যুবক ও প্রত্যন্ত এলাকার নারীদের উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখাত। পরে ভুয়া ভিসা ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে নারীদের বিদেশে পাচার করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো নারীকে সিগারেট দিয়ে শরীরে জখম করার অভিযোগও রয়েছে। এসআরবি জানায়, মিশরে অবস্থানরত নারীদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলছে।
"আরজু রহমানের ব্যাংক হিসাব থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের নামে মানব পাচার চালাতেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর বনানী, কারওয়ান বাজার, মিশর, শ্রীলঙ্কা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আরজু রহমান, লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, কামরুন নাহার, আঞ্জুমান আরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০-৪০ লাখ টাকা প্রত্যেক ভুক্তভোগী, ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৬ জুলাই, ৩০ থেকে ৩৫ জন ভুক্তভোগী, ৩০০+ ভুক্তভোগীর যোগাযোগ, ২০০০+ শিকার, ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, ২২৩ জন মানব পাচারকারী গ্রেপ্তার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!