📌 ঢাকার দনিয়া শাখার ডাচ্-বাংলা ব্যাংক থেকে নারী গ্রাহক নারগিস আক্তারের একাউন্ট থেকে ৮৫ লাখ টাকা চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জালিয়াতির অভিযোগে অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও পুলিশ তদন্তের সময়সীমা বাড়িয়ে দিচ্ছে
ঢাকার কদমতলী থানাধীন শনিরআখড়া এলাকার দনিয়া ব্র্যাঞ্চের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক থেকে নারী গ্রাহক নারগিস আক্তারের একাউন্ট থেকে ৮৫ লাখ টাকা চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যাংকের কর্মকর্তারা জালিয়াতির মাধ্যমে এই চুরি করেছে। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছেন, তার একাউন্ট থেকে জাল চেকের মাধ্যমে এই অর্থ অপহরণ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮৫ লাখ টাকা চুরি: ডাচ্-বাংলা ব্যাংক দনিয়া শাখার নারী গ্রাহক নারগিস আক্তারের একাউন্ট থেকে ৮৫ লাখ টাকা চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 জাল চেকের মাধ্যমে অপহরণ: অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যাংকের কর্মকর্তারা জাল চেকের মাধ্যমে এই অর্থ পূবালী ব্যাংকের একটি প্রতিষ্ঠানের একাউন্টে ট্রান্সফার করেছে।
- 📌 সহযোগিতা করা কর্মকর্তাদের নাম: অভিযোগে জড়িত থাকার অভিযোগে গোলাম কিবরিয়া (ভাইস প্রেসিডেন্ট), মোহিত মোরশেদ (ডেপুটি ম্যানেজার) এবং সৌরভ সাহা (এসিস্ট্যান্ট অফিসার)কে উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 পুলিশ তদন্তে সতর্কতা: পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করলেও মামলা নথিভুক্ত করেনি। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আউয়াল বলেছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
- 📌 অভিযোগ গ্রহণের অস্বীকার: ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছেন, কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার তার লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করলেও তা মামলা বা জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করেননি।
📰 বিস্তারিত
নারগিস আক্তার, ঢাকার কদমতলী থানাধীন দক্ষিণ দনিয়ার ১৪৭৮ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা, দনিয়া ব্র্যাঞ্চের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে একাউন্ট নম্বর-৭৮২৮৬৯৭ খোলেন। তিনি ব্যাংক লেনদেনের সময় ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট গোলাম কিবরিয়া এবং ডেপুটি ম্যানেজার মোহিত মোরশেদের সহযোগিতা নিতেন। তাদের সহায়তায় তিনি ব্যাংকে টাকা জমা ও উত্তোলন করতেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর, নারগিস আক্তার জরুরি প্রয়োজনে ৫ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গিয়েছিলেন। ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাকে বলেন, তিনি সরাসরি লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা উত্তোলন না করে তাদের সহায়তায় টাকা তুলতে পারেন। কর্মকর্তারা তাকে একটি কক্ষের চেয়ারে বসিয়ে রেখে বলেন, "ম্যাডাম, আপনার দৌড়ঝাঁপ দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তুলতে হবে না। আমরাই সবকিছু লিখে টাকা তুলে দিচ্ছি।" তারপর কর্মকর্তারা তাকে দুটি চেকের পাতায় সামনে-পেছনে সই করতে বলেন। সই স্বাক্ষর দেওয়ার পর, কর্মকর্তা সৌরভ সাহা তার চেক বই নিয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেন। কিছুক্ষণ পর, সৌরভ সাহা ৫ লাখ টাকা তুলে দেন এবং চেক বইসহ তাকে হাতে তুলে দেন।
এর প্রায় ৮-১০ দিন পর, নারগিস আক্তার চেক বই খুলে দেখেন, একটি পাতা অনুপস্থিত। তিনি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে যান এবং জানতে পারেন, তার সই দেওয়া চেক বইয়ের মাধ্যমে ২৩ সেপ্টেম্বর পূবালী ব্যাংকের একটি প্রতিষ্ঠানের একাউন্টে ৮৫ লাখ টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে।
নারগিস আক্তার অভিযোগ করেছেন, "গত ১৭ সেপ্টেম্বর ৫ লাখ টাকা তোলার সময় আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া, মোহিত মোরশেদের দিক-নির্দেশনা ও পরস্পর যোগসাজশে সৌরভ সাহা মিলে কৌশলে আমার সই রেখে বা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে একাউন্ট থেকে ৮৫ লাখ টাকা গায়েব করে দিয়েছে।"
"আমি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু তারা সময়ক্ষেপণ করছে। পুলিশও স্পষ্ট কিছু জানায়নি। এসআই আউয়াল বলেছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, কিন্তু আমি এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাইনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার কদমতলী থানাধীন শনিরআখড়া এলাকার দনিয়া ব্র্যাঞ্চ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নারগিস আক্তার, গোলাম কিবরিয়া, মোহিত মোরশেদ, সৌরভ সাহা, এসআই আউয়াল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৫ লাখ টাকা, ৫ লাখ টাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২৩ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!