📌 দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পি কে হালদারসহ ৪৮ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে। ৮৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বুধবার পি কে হালদারসহ ৪৮ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে। এই মামলাগুলোতে ৮৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নামসর্বস্ব ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুদক বুধবার পি কে হালদারসহ মোট ৪৮ জনের বিরুদ্ধে ৮৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার্জশিট অনুমোদন করেছে
- 📌 প্রথম মামলায় নেচার এন্টারপ্রাইজের নামে ৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে
- 📌 দ্বিতীয় মামলায় রহমান কেমিক্যাল লিমিটেডের নামে ৫৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পি কে হালদারসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে
- 📌 দুদকের তদন্তে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে ১০ হাজার কোটি টাকার আত্মসাত ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে
- 📌 ২০২২ সালের ১১ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া পি কে হালদারকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, নওশেরুল ইসলামের মালিকানাধীন নেচার এন্টারপ্রাইজ নামের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই মামলায় প্রাথমিকভাবে ২১ জনকে আসামি করা হয়েছিল, কিন্তু তদন্তে আরও সাতজনকে যুক্ত করে মোট ২৮ জনকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে নওশেরুল ইসলাম, পি কে হালদার, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল হক গাজীসহ প্রতিষ্ঠানটির ৯ পরিচালক এবং সাতজন কর্মকর্তা রয়েছে।
দুইতীয় মামলায় রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার এবং নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান রহমান কেমিক্যাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীসহ ২০ জনকে চার্জশিটে আসামি করা হয়েছে। দুদকের তদন্তে এই প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৩ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পি কে হালদারের বিরুদ্ধে ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিভিন্ন মামলায় আত্মসাত ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকাকালে ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি করে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত ও পাচার করেছেন। এ পর্যন্ত কমিশন ৬৭টি মামলা করেছে, যেখানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২৩ সালে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পি কে হালদারকে ২২ বছরের কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি ২০২২ সালের ১১ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হন। দেশে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলার বিচার চলছে।
"দুটি মামলায় ৮৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার্জশিট অনুমোদন করা হয়েছে। এতে পি কে হালদারসহ মোট ৪৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।" — দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পি কে হালদার, আকতারুল ইসলাম, নওশেরুল ইসলাম, উজ্জ্বল কুমার নন্দী, নুরুল হক গাজী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮ জন, ৮৮ কোটি টাকা, ৪৫ কোটি টাকা, ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, ৫৩ কোটি টাকা, ২৮ জন, ২০ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!