📌 ভোলার লালমোহন উপজেলার বাসিন্দা সারমিন আক্তার রিপা তার সন্তানের পিতৃত্ব নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা ও নিরাপত্তা দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, তার চাচাতো ভাই ও বন্ধু ধর্ষণ করে সন্তান জন্ম দিয়েছে এবং হামলা-ভাঙচুরে লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সারমিন আক্তার রিপা তার সন্তানের পিতৃত্ব নিশ্চিত করতে আইনানুগ ডিএনএ পরীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন। সারমিনের অভিযোগ, তার চাচাতো ভাই মো. সিরাজ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেছেন এবং পরবর্তীতে তার বন্ধু জনতা বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারী জুলফিকার আলী ওরফে মিজানুর রহমানও জড়িত ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সারমিন আক্তার রিপা তার সন্তানের পিতৃত্ব নিশ্চিত করতে আইনানুগ ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন এবং জুলফিকার আলী ওরফে মিজানুর রহমানকে সন্তানের বাবা হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকার করার অভিযোগ করেছেন।
- 📌 ১৩ সেপ্টেম্বর তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়, যেখানে তার চাচাতো ভাই মো. সিরাজ ও জুলফিকার আলীর ইন্ধনে মামুন হাওলাদার, বসার হাওলাদার, ওসমান গনি, সোহাগ, জিহাদ, মেহেদী হাসান, সাজু, সিয়াম, আকাশ, মিজান ও রুহুল আমিন কাজীসহ বেশ কয়েকজন তাকে মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছেন।
- 📌 ধর্ষণ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ১৩ সেপ্টেম্বরের হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সারমিন।
- 📌 সারমিনের মা নামাজ পড়ার সময় বাধা দেওয়া হয় এবং সোহাগ পেছন থেকে তাকে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
- 📌 মামলা করার পর থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সারমিন।
📰 বিস্তারিত
সারমিন আক্তার রিপা তার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, তার চাচাতো ভাই মো. সিরাজ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। পরবর্তীতে সিরাজ তার বন্ধু জনতা বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারী জুলফিকার আলী ওরফে মিজানুর রহমানকে নিয়ে আসেন এবং একপর্যায়ে সিরাজ ও জুলফিকার আলী তাকে ধর্ষণ করেছেন। তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন এবং পরবর্তীতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তিনি জুলফিকার আলী ওরফে মিজানুর রহমানকে শিশুটির বাবা দাবি করলেও তিনি পিতৃত্ব স্বীকার করছেন না এবং ডিএনএ পরীক্ষায় সম্মতি দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন সারমিন।
সারমিন আরও বলেছেন, মামলা করার পর থেকে তাকে মুখ বন্ধ রাখতে এবং মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরটিটিয়া গ্রামের বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় সিরাজ ও জুলফিকার আলীর ইন্ধনে মামুন হাওলাদার, বসার হাওলাদার, ওসমান গনি, সোহাগ, জিহাদ, মেহেদী হাসান, সাজু, সিয়াম, আকাশ, মিজান ও রুহুল আমিন কাজীসহ বেশ কয়েকজন বাড়িতে এসে তাকে মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। হামলার সময় তার অসুস্থ ও বয়স্ক মাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সারমিন।
সারমিন বলেন, তার মা নামাজ পড়ার সময় বাধা দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে সোহাগ পেছন থেকে তাকে লাথি মারেন। এ ছাড়া তাকে সামাজিক ও আইনি চাপে রাখতে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর এবং মিথ্যা মাদক মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন সারমিন। তার মায়ের বিরুদ্ধেও একটি মামলা করা হয়েছে, যেটিকে তিনি হয়রানিমূলক ও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।
সারমিন আরও জানান, ঘটনার পর ভোলার পুলিশ সুপার ও লালমোহন থানা পুলিশ তাকে আইনগত সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে মামলা ও বিভিন্ন প্রমাণ থাকার পরও তিনি এখনো কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাননি বলে দাবি করেছেন। ফলে তিনি ও তার সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।
"আমি কারও বিরুদ্ধে অন্যায় করতে চাই না। আমি শুধু সত্য জানতে চাই। আইনানুগ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করা হোক। পরীক্ষায় পিতৃত্ব প্রমাণিত হলে আমার সন্তানের আইনগত অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোলা প্রেসক্লাব, লালমোহন উপজেলা, বদরপুর ইউনিয়ন (৫ নম্বর ওয়ার্ড), চরটিটিয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সারমিন আক্তার রিপা, মো. সিরাজ, জুলফিকার আলী ওরফে মিজানুর রহমান, সোহাগ, জিহাদ, মামুন হাওলাদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ নম্বর ওয়ার্ড, ১৩ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!