📌 সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন নিয়ে এবি পার্টি লইয়ার্স আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আইনজীবী ও অধ্যাপকরা সতর্ক করেছেন যে, অস্পষ্ট বিধান রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হতে পারে। তারা বলেছেন, সাইবার অপরাধ দমনে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী আইন প্রয়োজন, কিন্তু নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকার রক্ষায় সুনির্দিষ্ট সীমারেখা থাকতে হবে
সাইবার অপরাধ দমনে শক্তিশালী আইন প্রয়োজন হলেও, এর অস্পষ্ট ও বিস্তৃত বিধান রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়ে যাবে সে বিষয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন আইনজীবী ও আইনবিদগণ। এবি পার্টি লইয়ার্সের আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন: নিরাপত্তা বনাম হেনস্তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এই উদ্বেগ উঠে এসেছে। বক্তারা বলেছেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে নাগরিকের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকারকে অনিরাপদ করে তোলা যাবে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাইবার অপরাধ দমনে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী আইন প্রয়োজন, কিন্তু অস্পষ্ট বিধান রাজনৈতিক সমালোচনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করতে পারে না — এবি পার্টি লইয়ার্সের মতবিনিময় সভায় এই সতর্কতা জানানো হয়
- 📌 ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন ২০১৮ সালের আইন ও ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের ধারাবাহিকতা, তবে এর মধ্যে ফ্যাসিস্ট সরকারের আইন চর্চার ধারাবাহিকতা থাকার আশঙ্কা উঠেছে
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক সমালোচনা বা সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না — এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদের দাবি
- 📌 গুজব, মিসইনফরমেশন বা রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের মতো অস্পষ্ট শব্দের অপব্যবহার বন্ধ এবং কনটেন্ট বন্ধের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়
- 📌 সাইবার নিরাপত্তা আইনে নাগরিকের ডিজিটাল অধিকার রক্ষায় স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার — এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনের পাঁচটি আহ্বান
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা বলেছেন, সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী আইন প্রয়োজন। তবে এই আইনটি যেন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়ে যায়, সে বিষয়ে সতর্কতা জানানো হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেছেন, প্রস্তাবিত আইনটি পূর্ববর্তী আইন ও অধ্যাদেশের ধারাবাহিকতা, তবে এর মধ্যে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে। তিনি বলেছেন, এই আইনকে পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের আইন চর্চার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, সাইবার অপরাধ দমনের নামে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করা যাবে না। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ইমোজি বা সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেছেন, সাধারণ নাগরিক সরকারের সমালোচনা করতে পারবেন কি না, সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বললে মানহানি হবে কি না, এমন প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর থাকতে হবে। তিনি আগের সরকারের ডিজিটাল আইন নিয়ে যে ভুল করেছিল, বর্তমান সরকার যেন একই পথে না হাঁটে — এমন আহ্বান জানিয়েছেন।
এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে নাগরিকের স্বাধীনতা অনিরাপদ করে তোলা যাবে না। তিনি সরকারের প্রতি পাঁচটি আহ্বান জানিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
"ব্যাপক ও অর্থবহ জনপরামর্শ করা; ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’র মতো অস্পষ্ট শব্দের অপব্যবহার বন্ধ করা; কনটেন্ট বন্ধ বা সরানোর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদন নিশ্চিত করা; সরকারের সমালোচনা, ভিন্নমত ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং নাগরিকের ডিজিটাল অধিকার রক্ষায় স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা"
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া। সভায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ননপ্রফিট ল (আইসিএনএল) সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগও উঠে এসেছে। তারা বলেছেন, প্রস্তাবিত আইনটি যদি অস্পষ্ট বিধান নিয়ে গঠিত হয়, তবে তা নাগরিকের ডিজিটাল অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জাতীয় প্রেসক্লাব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, আবদুল্লাহ আল মামুন, যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ অক্টোবর ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!