📌 কক্সবাজারের টেকনাফের ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান ইয়াহিয়াকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে
চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা সহ মোট ১৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন কক্সবাজারের ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান ইয়াহিয়াকে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আদালতের বিচারক মিজানুর রহমানের রায়ে জানা গেছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগে ইয়াহিয়াকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কক্সবাজার টেকনাফের ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান ইয়াহিয়াকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১২ কোটি ৫৫ লাখ ১ হাজার ৩৫৩ টাকা জরিমানা করা হয়েছে
- 📌 জরিমানার অর্থ অনাদায়ে ইয়াহিয়াকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে
- 📌 মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও গণপূর্ত প্রকৌশলীরা ছিলেন
- 📌 আদালত অনুযায়ী, ইয়াহিয়ার আয়কর নথিতে ঘোষিত সম্পদের তুলনায় ১১ কোটি ২৬ লাখ টাকার সম্পদ অপ্রদর্শিত ছিল
- 📌 ইয়াহিয়া ২০০৭-০৮ করবর্ষে আয়কর নথিতে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সম্পদ ঘোষণা করলেও বাস্তবে তার সম্পদ ছিল ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমানের রায়ে জানা গেছে, আনিসুর রহমান ইয়াহিয়া কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ এলাকার মৃত হাজি নবী হোসেনের ছেলে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের ২৭(১) ধারায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১২ কোটি ৫৫ লাখ ১ হাজার ৩৫৩ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আইনজীবী রেজাউল করিম রনি জানান, বিপুল পরিমাণ সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে না পারায় আদালত এ সাজা দিয়েছে। মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে অনুসন্ধান ও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১৯ নভেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় মামলা করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ জুলাই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগপত্র আমলে নেয় ২০০৯ সালের ১৭ আগস্ট। পরে ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ অভিযোগ গঠন করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইয়াহিয়া চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় চারতলা বাড়ি, সাততলা অ্যাপার্টমেন্ট এবং লালখান বাজারের দশতলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করেছেন। তিনটি স্থাপনায় মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে আয়কর নথিতে তিনি মাত্র ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সম্পদ ঘোষণা করেছিলেন। এই অসামঞ্জস্য থেকে ১১ কোটি ২৬ লাখ টাকার সম্পদ অপ্রদর্শিত থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বারিধারায় ৩৫ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট, কক্সবাজার সদরে ১৭ লাখ টাকায় ‘আজকের দেশ-বিদেশ’ পত্রিকার কার্যালয় এবং টেকনাফে ১৫ লাখ টাকায় নাফ ভিউ ফিলিং স্টেশন লিজ নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় জমি ও অস্ত্র কেনার তথ্যও উঠে আসে। দুদকের অভিযোগ, এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।
"বিপুল পরিমাণ সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে না পারায় দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় আদালত এ সাজা দিয়েছেন।" — আইনজীবী রেজাউল করিম রনি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত, কক্সবাজার টেকনাফ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনিসুর রহমান ইয়াহিয়া, আইনজীবী রেজাউল করিম রনি, বিচারক মিজানুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ বছর কারাদণ্ড, ১২ কোটি ৫৫ লাখ ১ হাজার ৩৫৩ টাকা জরিমানা, ১৩ জন সাক্ষী, ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!