📌 কক্সবাজারের রিসোর্টে সাইবার প্রতারণা চক্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬ বিদেশিকে ৩ দিনের রিমান্ডে আদালত মঞ্জুর করেছে। পুলিশের অভিযানে জব্দ করা হয় ১৯৩৮টি আইফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস। পলাতক ৪ বিদেশি ও ৩ বাংলাদেশি সহযোগী আত্মগোপনে রয়েছেন
কক্সবাজারের রিসোর্টে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ছয় বিদেশিকে আদালত তিন দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছে। সিআইডি তদন্তের পর মামলাটি আদালতে উপস্থাপিত হয়, যেখানে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। শুনানির পর বিচারক এস এম গিয়াস উদ্দিন তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কক্সবাজারের রিসোর্টে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬ বিদেশিকে ৩ দিনের রিমান্ডে আদালত মঞ্জুর করেছে।
- 📌 গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে তাইওয়ানের ওয়েই ছিং ওয়েন এবং চীনের সু ইয়াংফান, ইয়ান চ্যাংশেং, সু হাইয়াং, উ চিয়ানশিয়ং ও ঝাং ঝেমিং।
- 📌 অভিযানে জব্দ করা হয় ১৯৩৮টি আইফোনসহ ৫০টি মনিটর, ৪৪টি সিপিইউ, ৩০টি কি-বোর্ড, ৪০টি মাউস, ২৪টি কানেকশন বোর্ড, ২টি ল্যাপটপ ও ২টি প্রিন্টার।
- 📌 পলাতক ৪ বিদেশি ও ৩ বাংলাদেশি সহযোগী আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঝান ইউয়ান ফান ওরফে বাবর আলী, পাই লেডিং, উ জিপিং ও জিয়ান ঝাং উল্লেখযোগ্য।
- 📌 রিসোর্টে গোপন ল্যাবের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকার চীনা দূতাবাসকে বিষয়টি জানিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সোমবার দুপুরে কক্সবাজারের সিনিয়র বিচারিক হাকিম আদালতে গ্রেপ্তারকৃত ছয় বিদেশিকে হাজির করা হয়। পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সিআইডির পরিদর্শক আবুল কালাম জানান, সুবিধাজনক সময়ে সাইবার প্রতারণার বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শওকত ওসমান বলেন, ছয় বিদেশির অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ডিভাইসগুলোর বিষয়ে আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, সাইবার অপরাধের সত্যতা বের করা জরুরি, কিন্তু যদি তারা পর্যটন বা বৈধ কাজে বাংলাদেশে থাকেন, তাহলে তাদের আইনি মুক্তির সুযোগও রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার শহরের কলাতলী ও সুগন্ধা এলাকার হোটেলগুলিতে অভিযান চালিয়ে ছয় বিদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৪ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযানে পলাতক ৪ বিদেশি ও ৩ বাংলাদেশি সহযোগী আত্মগোপনে রয়েছেন।
অভিযানে জব্দ করা হয় ১৯৩৮টি আইফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস। এছাড়া ১৫টি নোট খাতা, একটি ডায়েরি, চারটি গ্রামীণফোন ও একটি রবি সিম, চীনের দুটি জাতীয় পতাকা এবং চীনা পুলিশের একটি র্যাঙ্ক ব্যাজ ও টাইও উদ্ধার করা হয়। একটি গোপন আস্তানায় প্রায় দুই হাজার আইফোন রাখা হয়েছিল এবং এগুলো কোনো বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হতো কি না, তা জানতে জব্দ করা ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
"পলাতক বিদেশিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। রিসোর্টে গোপন ল্যাবের অভিযোগ মামলাটি এখন সিআইডি তদন্ত করছে।"
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) মো. অহিদুর রহমান জানান, মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টে চীনা নাগরিকদের গোপন আস্তানা ও ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসকে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আগস্টের শেষ দিকে ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে দুই দফায় চীনা দূতাবাসের তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে এসে কথিত গোপন ল্যাব পরিদর্শন করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট মেরিন ড্রাইভের মেরিনা বিচ ভিলা রিসোর্টে আরেকটি অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চীন ও তাইওয়ানের বেশ কিছু নাগরিক রিসোর্টের পেছনের দরজা দিয়ে সমুদ্রসৈকতে নেমে পড়েন। পরে অন্ধকারে তাঁরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পুলিশ তখন বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ এবং ল্যাবটি সিলগালা করে দেয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার, মেরিন ড্রাইভ, কলাতলী, সুগন্ধা এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবুল কালাম (সিআইডি পরিদর্শক), এস এম গিয়াস উদ্দিন (বিচারক), শওকত ওসমান (রাষ্ট্রপক্ষ আইনজীবী), আবদুল মান্নান (আসামিপক্ষ আইনজীবী), মো. অহিদুর রহমান (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ জন গ্রেপ্তারকৃত বিদেশি, ১৯৩৮টি আইফোন, ৫০টি মনিটর, ৪৪টি সিপিইউ, ৩০টি কি-বোর্ড, ৪০টি মাউস, ২৪টি কানেকশন বোর্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!