📌 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার মামলায় আদালতে আইনজীবীদের হাতাহাতির পর বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামি আয়াসসহ দুজনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ রয়েছে
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার মামলায় আয়াসসহ দুই আসামির জামিন শুনানির সময় আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিচারক এজলাস ত্যাগ করার পর পরিস্থিতি শান্ত হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমির দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন আয়াসসহ চারজন, তাদের মধ্যে দুজনকে কারাগারে আটক রাখার আদেশ
- 📌 বিচারকের সামনে আইনজীবীদের হাতাহাতি দেখে বিচারক বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে এজলাস ত্যাগ করেন, পরে ৪টা ৪২ মিনিটে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন
- 📌 রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আসামিরা ‘উসকানি’ দিয়েছেন এবং ‘গালাগালি’ করেই ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করছেন
- 📌 আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন দাবি করেন, আসামিরা ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন এবং ‘দেশের শিল্পীদের পক্ষে’ ছিলেন
- 📌 হাতাহাতিতে শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মহসিন তৌহিদের, তিনি মারধরের শিকার হন
📰 বিস্তারিত
গত ১০ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব মোহাম্মদ আয়াসসহ চারজন। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করে। আদালতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার (রিমি)কে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার প্রার্থনা করা হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন বলেন, আসামিরা ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন এবং দেয়ালে ভারতীয় শিল্পীদের ছবি থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, আসামিরা ‘দেশের শিল্পীদের পক্ষে’ ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে বলেন, আসামিরা ‘উসকানি’ দিয়েছেন এবং ‘গালাগালি’ করেই ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি আরও বলেন, আসামিরা ‘জামায়াতের লোক’ এবং ‘গালাগালি’ করেই জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছেন।
আদালতে আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে বিচারকের সামনে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের হাতাহাতি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবীর সঙ্গে হাতাহাতিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মহসিন তৌহিদের শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায়। বিচারক এ ঘটনা দেখে বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে এজলাস ত্যাগ করেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে তিনি বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
“এই আসামিরা অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে। এখানে হঠাৎ করে পাকিস্তান, জিন্নাহ—এসব বিষয় আসবে। আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখেই কেন কালি দিতে হবে। এর কারণ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উসকানি দেওয়া এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত, শাহবাগ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আয়াস, মারজিয়া খন্দকার (রিমি), আইনজীবী মনির হোসেন, ওমর ফারুক ফারুকী, আল মহসিন তৌহিদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ অক্টোবর, ৪টা ৩৭ মিনিট, ৪টা ৪২ মিনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!