📌 চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর শিকলবাহা খালে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধারকৃত নিহত নারীর মৃত্যুতে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজা মিয়া ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, বিয়ের পর বিবাদে জড়িয়ে পড়ার পর স্ত্রীকে হত্যা করা হয়।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর শিকলবাহা খালে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধারকৃত নিহত নারীর মৃত্যুতে পুলিশের তদন্তে নতুন রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, বেড়ানোর কথা বলে স্ত্রীকে সাম্পানে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয় এবং তার লাশ বস্তাবন্দী করে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। নিহত নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮)।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৮ জুলাই ২০২৬ রাতে কর্ণফুলী নদীর শিকলবাহা খালে সাম্পানে বস্তাবন্দী করে হত্যা করা হয় জান্নাতুল ফেরদৌসকে, তার লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়
- 📌 ২ আগস্ট ২০২৬ দুপুর ১২টায় শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাটে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়
- 📌 হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মুসলিম উদ্দিন ও শুকুর আহম্মদ গ্রেপ্তার করা হয়েছে, রাজা মিয়ার গ্রেপ্তার অভিযান চলছে
- 📌 ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাজা মিয়া জান্নাতুলকে বিয়ে করেন, কিন্তু বিয়ের আগে তিনি নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন
- 📌 হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল জান্নাতুলের প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর
📰 বিস্তারিত
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুতে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জান্নাতুলের প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় রাজা মিয়া নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে বিয়ের কিছুদিন পর জান্নাতুল জানতে পারেন, রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রী রয়েছেন। এর জেরেই তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বেড়ানোর কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর অন্য পাড়ে ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান রাজা মিয়া। সেখানে আগে থেকেই সাম্পান নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন মুসলিম উদ্দিন, রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুকুর আহম্মদ এবং অজ্ঞাতনামা আরেক ব্যক্তি। সাম্পানটি কর্ণফুলী সেতুর নিচ দিয়ে শিকলবাহা খালে প্রবেশ করে। সাম্পানে রাজা মিয়ার সঙ্গে জান্নাতুলের কথা-কাটাকাটি চলছিল। একপর্যায়ে রাজা মিয়া জান্নাতুলের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেন। এরপর তাঁর মুখ চেপে ধরেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আরেক সহযোগী সাম্পানে রাখা ব্যাগ থেকে রশি ও বস্তা বের করেন। রশি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ধরলে জান্নাতুলের মৃত্যু হয়। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দী করে খালে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
কর্ণফুলী থানার কালারপোল এলাকায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনে শিকলবাহা খালে জান্নাতুলের মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে ২ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাটসংলগ্ন খালে ভাসমান অবস্থায় বস্তাবন্দী ও হাত-পা বাঁধা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌ পুলিশ। পরবর্তী সময়ে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় জান্নাতুলের মা ছায়রা খাতুন বাদী হয়ে রাজা মিয়া ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন।
"মুসলিম উদ্দিন গত বুধবার হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুকুর আহম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজা মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কর্ণফুলী নদীর শিকলবাহা খাল, চট্টগ্রামের ব্রিজঘাট এলাকা, কালারপোল এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮), রাজা মিয়া, মুসলিম উদ্দিন, শুকুর আহম্মদ, মোস্তাফিজুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ জুলাই ২০২৬, ২ আগস্ট ২০২৬, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!