📌 লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে লাইফ লাইন হাসপাতালে অপচিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু ও প্রসূতির শারীরিক জটিলতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অপচিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু ও প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের দুর্ব্যবহার ও অযোগ্য চিকিৎসার কারণে নবজাতক মারা যায় এবং প্রসূতির অবস্থাও আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৩ অক্টোবর রাতে প্রসববেদনা অনুভব করে শাহনাজ বেগম (২০) করইতলা বাজারের লাইফ লাইন হাসপাতালে ভর্তি হন।
- 📌 অপার্টমেন্ট চিকিৎসক সুমাইয়া ইসলাম (ডিএমএফ সনদধারী) স্বাভাবিক প্রসবের আশ্বাস দিলেও ২৪ ঘণ্টা পরও প্রসবের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরিবার উদ্বেগ প্রকাশ করে।
- 📌 হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকার করে একের পর এক ইনজেকশন দিয়ে রোগীকে আটকে রাখে।
- 📌 গর্ভেই নবজাতকের মৃত্যু ঘটে এবং অবশ না করেই অস্ত্রোপচার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
- 📌 সুমাইয়া ইসলামের এমবিবিএস ডিগ্রি নেই এবং অন্তঃসত্ত্বা মায়ের চিকিৎসা করার বৈধ অনুমতি নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
- 📌 ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত এবং ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আজাদের ছেলে আরিফ হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ বেগমের (২০) প্রসবকালীন অবস্থা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। আরিফ হোসেন গত ১৩ অক্টোবর রাতে স্ত্রীকে করইতলা বাজারের লাইফ লাইন হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসা সহকারী সুমাইয়া ইসলাম আলট্রাসনোগ্রাফি করে স্বাভাবিক প্রসবের আশ্বাস দিলেও ২৪ ঘণ্টা পরও প্রসবের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরিবার উদ্বেগ প্রকাশ করে।
পরিবারের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সুমাইয়া ইসলাম দুর্ব্যবহার করে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। একপর্যায়ে গর্ভেই নবজাতকের মৃত্যু ঘটে এবং অবশ না করেই অ্যানেসথেসিয়া ছাড়াই অস্ত্রোপচার করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সুমাইয়া ইসলামের এমবিবিএস ডিগ্রি নেই এবং তিনি ডিএমএফ সনদধারী। হাসপাতালটিতে এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়াই কার্যক্রম চলছে এবং সুমাইয়া ইসলামের অন্তঃসত্ত্বা মায়ের চিকিৎসা করার বৈধ অনুমতি নেই।
আরিফ হোসেন বলেন, ‘বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও আমাদের রোগীকে জেলা বা ঢাকা নিতে দেওয়া হয়নি। উল্টো আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং রোগীকে একের পর এক ইনজেকশন পুশ করেছে। অবশ না করেই তড়িঘড়ি করে ছোট সিজার ও সেলাই করায় এখন আমার স্ত্রীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। সে এখন লক্ষ্মীপুরের একটি হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
"আমাদের রোগীকে জেলা বা ঢাকা নিতে দেওয়া হয়নি। উল্টো আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং রোগীকে একের পর এক ইনজেকশন পুশ করেছে।"
লাইফ লাইন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান অভিযোগের বিষয়টি শুনেছেন, কিন্তু বলেছেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। তবে কিছু লোক আমাকে সাময়িক হয়রানি করার মিশন নিয়ে এসব করছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা, করইতলা বাজার এলাকার লাইফ লাইন হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফ হোসেন (নবজাতকের বাবা), শাহনাজ বেগম (২০, প্রসূতি), সুমাইয়া ইসলাম (চিকিৎসক), বাহারুল আলম (সিভিল সার্জন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ (শাহনাজ বেগমের বয়স), ৩ (ওয়ার্ড নম্বর), ১৩ (অক্টোবর), ২৪ (ঘণ্টা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!