📌 চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিয়ের এক বছরের মাথায় স্বামী শিমুল শীল স্ত্রী চন্দনা রানী শীলকে হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে নজরুল ইসলাম ও ইলিয়াস হোসেনও রয়েছে। ঘটনার পেছনে সন্দেহ ও নির্যাতনের ইতিহাস রয়েছে বলে জানা গেছে
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিয়ের এক বছরের মাথায় স্বামী শিমুল শীল স্ত্রী চন্দনা রানী শীলকে হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে শিমুলের সঙ্গে জড়িত দুজন তরুণও রয়েছে। ঘটনার পেছনে সন্দেহ ও নির্যাতনের ইতিহাস রয়েছে বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিয়ের এক বছরের মাথায় স্ত্রী চন্দনা রানী শীলকে হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন শিমুল শীল
- 📌 আদালতে জবানবন্দিতে শিমুল বলেছেন, স্ত্রীর সঙ্গে নজরুল ইসলামের সম্পর্কের সন্দেহে তিনজন মিলে তাকে হত্যা করেছেন
- 📌 পুলিশ নজরুল ইসলাম ও ইলিয়াস হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে; শিমুল ও তার ভাই পীযূষ শীলও গ্রেপ্তার ছিলেন
- 📌 চন্দনা রানী শীলের লাশ টেরিয়াইল এলাকায় উদ্ধার করা হয়; তিনি বিয়ের পর থেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন
- 📌 শিমুল ও পীযূষ কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে প্রহরীর কাজ করেন; নজরুল সিএনজি অটোরিকশা চালক, ইলিয়াস মিনিবাস চালক
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর গত শুক্রবার বিকেলে সীতাকুণ্ডের টেরিয়াইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিমুল শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একই এলাকায় তার ভাই পীযূষ শীলকেও গ্রেপ্তার করা হয়। শিমুলের জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, স্ত্রী চন্দনা রানীর সঙ্গে নজরুল ইসলামের সম্পর্কের সন্দেহে ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার দিন রাতে তিনি এ নিয়ে চন্দনাকে জেরা করেন, সেখানে নজরুলও উপস্থিত ছিলেন। চন্দনা মামলার হুমকি দিলে তিনজন মিলে তাকে হত্যা করেন। পুলিশ জানায়, নজরুল ইসলাম ও ইলিয়াস হোসেন দুজনেই বন্ধু। নজরুল সিএনজি অটোরিকশার চালক এবং ইলিয়াস মিনিবাসের চালক। শিমুল ও পীযূষ দুজনেই কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ডাম্পিং স্টেশনে প্রহরীর কাজ করেন।
গতকাল শনিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেনের আদালতে শিমুল শীল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শিমুলের স্বীকারোক্তির পর নজরুল ইসলাম ও ইলিয়াস হোসেনকে ভাটিয়ারী ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
চন্দনা রানী শীলের লাশ গত শুক্রবার সকালে উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পেছন থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম সৈয়দপুর তেজেন্দ্র দাশের মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকে চন্দনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। ঘটনার আগের দিনও নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। পরে তাঁর স্বামী তাঁকে আবার ডেকে নিয়ে যান। এর এক দিন পর পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর পান।
"আমার স্ত্রী চন্দনার সঙ্গে নজরুলের সম্পর্ক ছিল বলে আমার সন্দেহ। বিষয়টি নিয়ে ঝগড়া হয়। চন্দনা মামলার হুমকি দিলে আমরা তিনজন মিলে তাকে হত্যা করেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, টেরিয়াইল এলাকা, বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন, সৈয়দপুর ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিমুল শীল, চন্দনা রানী শীল, নজরুল ইসলাম, ইলিয়াস হোসেন, পীযূষ শীল, ওসি মো. মহিনুল ইসলাম, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন গ্রেপ্তার, ১ বছর বিয়ের পর, ১ জন নিহত (চন্দনা রানী শীল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!