📌 রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহের চার যৌনপল্লিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক যৌনকর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। এনজিও শাপলা মহিলা সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, ৮২৩ জন কর্মীর মধ্যে ১২-১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরীদের অধিকাংশ পাচারের শিকার। গত পাঁচ মাসে ৮ জনকে উদ্ধার করা হলেও পুলিশের মিথ্যা অপবাদে সংস্থার কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া, ফরিদপুরের রথখোলা ও ময়মনসিংহের যৌনপল্লিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক যৌনকর্মীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে। বেসরকারি সংস্থা শাপলা মহিলা সংস্থার জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব পল্লিতে পাচারের শিকার শিশু-কিশোরীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাদের অধিকাংশই বাধ্য হয়ে যৌনকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। গত পাঁচ মাসে সংস্থাটি চার যৌনপল্লি থেকে মোট আট জন শিশু-কিশোরীকে উদ্ধার করেছে, কিন্তু পুলিশের মিথ্যা অপবাদে তাদের কর্মীরা নানা বাধার মুখে পড়ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৮২৩ জন কর্মীর জরিপে** দেখা গেছে, দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে **১২-১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরীদের সংখ্যা সর্বাধিক** বেড়েছে
- 📌 **গত পাঁচ মাসে ৮ জন শিশু-কিশোরী উদ্ধার** — ফরিদপুর থেকে ২ জন, দৌলতদিয়া থেকে ৪ জন, ময়মনসিংহ থেকে ২ জন
- 📌 **পাচারের শিকার শিশু-কিশোরীদের বয়স বাড়ানো হচ্ছে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে** এবং তাদের যৌনকর্মে বাধ্য করা হচ্ছে
- 📌 **সংস্থার কর্মীদের মিথ্যা অপবাদে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে** — অন্তত চারজনকে এভাবে আক্রান্ত করা হয়েছে
- 📌 **যৌনপল্লিতে জন্ম নেওয়া শিশুকন্যা ও কিশোরীদের ১২ বছর বয়স থেকেই যৌনকর্মে বাধ্য করা হয়**
📰 বিস্তারিত
বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের রথখোলায় শাপলা মহিলা সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে ‘প্রজন্ম সোপান প্রকল্প’-এর পাঁচ মাসের কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভার উদ্বোধন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক চঞ্চলা মণ্ডল। সভায় শিশু-কিশোরীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং পাচারের শিকারদের উদ্ধারের কার্যক্রমের বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক কর্মীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখানে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরীদের অধিকাংশই পাচারের শিকার হয়ে যৌনকর্মে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদের মধ্যে অনেকেই যৌনপল্লির নারী কর্মীদের সন্তান — তাদেরও ১২ বছর বয়স থেকেই যৌনকর্মে বাধ্য করা হচ্ছে।
সংস্থার উপনির্বাহী পরিচালক শ্যামল প্রকাশ অধিকারী জানান, পাচারের শিকার শিশু-কিশোরীদের উদ্ধারে গিয়ে সংস্থাটি নানা বাধার মুখে পড়ছে। বিশেষত, পুলিশের মিথ্যা অপবাদে সংস্থার অন্তত চার সদস্যকে আক্রান্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যৌনপল্লিতে জন্ম নেওয়া শিশু-কিশোরীদের বয়স বাড়ানো হয় নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এবং তাদের যৌনকর্মে বাধ্য করা হয়। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা কোনো নিয়ম মানছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
"পাচারের শিকার শিশু-কিশোরীদের উদ্ধারে গিয়ে আমরা নানা বাধার মুখে পড়ছি। পুলিশের মিথ্যা অপবাদে আমাদের কর্মীদের আক্রান্ত করা হচ্ছে। এসব পল্লিতে জন্ম নেওয়া শিশু-কিশোরীদের বয়স বাড়ানো হয় এবং তাদের যৌনকর্মে বাধ্য করা হয়।"
— শ্যামল প্রকাশ অধিকারী, শাপলা মহিলা সংস্থার উপনির্বাহী পরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দৌলতদিয়া (রাজবাড়ী), রথখোলা (ফরিদপুর), ময়মনসিংহের যৌনপল্লি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চঞ্চলা মণ্ডল, শ্যামল প্রকাশ অধিকারী, প্রশান্ত সাহা, হাসানুজ্জামান, শ্রাবণ হাসান, রেজাউল করিম বিপুল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮২৩ জন কর্মী জরিপ, ৮ জন শিশু-কিশোরী উদ্ধার, ১২-১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরী, ৪৫টি অবৈধ কয়লা চুল্লি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!