📌 নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের হত্যার শোকে তার স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা ও চার বছরের মেয়ে প্রান্থি দুঃখে ডুবে পড়েছেন। মেয়েটি বাবার মৃত্যু নিয়ে বুঝতে না পেরেও মায়ের কান্না শান্ত করার চেষ্টা করছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে আলিফের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে লেখালেখি দায়ী বলে দাবি করা হচ্ছে
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলুঞ্জিয়া গ্রামে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের হত্যার শোকে তার স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা ও ছোট ছোট সন্তানদের জীবন সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে। চার বছরের মেয়ে প্রান্থি বাবার মৃত্যু নিয়ে বুঝতে না পেরেও মায়ের কান্না শান্ত করার চেষ্টা করছেন ‘মা, কেঁদো না, বাবা আকাশের স্টার হয়ে গেছে’ বলে। এই দৃশ্য শোককে আরও ভারী করে তুলেছে আনন্দিতার জীবনে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাংবাদিক হত্যার শোকে মেয়ের মুখে বাবার সান্ত্বনা: চার বছরের প্রান্থি মায়ের কান্না শান্ত করার চেষ্টা করছেন ‘বাবা আকাশের স্টার হয়ে গেছে’ বলে।
- 📌 দুই সন্তানের সাথে অনিশ্চিত ভবিষ্যত: আনন্দিতা সাংমা স্বামী হারানোর পাশাপাশি ছোট ছোট সন্তানদের বাবার অভাব পূরণের চিন্তায় ভুগছেন।
- 📌 অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে লেখালেখি দায়ী: আলিফের বড় ভাই ও বোন বলেছেন, সাংবাদিক অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে লেখালেখি করতেন, তাই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- 📌 হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া: ঘটনার দুই দিন পরও হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
- 📌 স্বামী হত্যার শোকে নার্সিং শিক্ষার্থী স্ত্রী: আলিফের বড় বোন দাবি করেছেন, স্ত্রীকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিলে সন্তানদের মানুষ করে গড়ে তোলা সহজ হবে।
📰 বিস্তারিত
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলুঞ্জিয়া গ্রামে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা ও ছোট ছোট সন্তানদের জীবন সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে। চার বছরের মেয়ে প্রান্থি বাবার মৃত্যু নিয়ে বুঝতে না পেরেও মায়ের কান্না শান্ত করার চেষ্টা করছেন ‘মা, কেঁদো না, বাবা আকাশের স্টার হয়ে গেছে’ বলে। এই দৃশ্য শোককে আরও ভারী করে তুলেছে আনন্দিতার জীবনে।
আনন্দিতা বলেছেন, ‘মেয়ের মুখে এসব কথা শুনলে বুকটা ফেটে যায়। বাবা যে আর কোনো দিন ফিরে আসবে না, তা বোঝার বয়স এখনো হয়নি তার। ওর কথা শুনে আমার কান্না দ্বিগুণ হয়ে যায়।’ প্রান্থির ছোট ভাই আইয়ান সাফয়ানের বয়স দেড় বছর। বাবার মৃত্যুর অর্থ বোঝার বয়স হয়নি তারও। দুই দিন ধরে বাবাকে কাছে না পেয়ে কিছুক্ষণ পর পর কেঁদে অস্থির হয়ে উঠছে সে।
স্বামীকে হারানোর শোকের পাশাপাশি সন্তানদের কীভাবে বড় করবেন, কীভাবে তাদের বাবার অভাব পূরণ করবেন—এসব দুশ্চিন্তা আনন্দিতাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আলিফের বড় ভাই শহীদুল ইসলাম ফকির বলেছেন, ‘আলিফ অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে লেখালেখি করতেন। সীমান্ত এলাকার মাদক-চোরাচালান, চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে লিখতেন। এর জেরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।’ আলিফের বড় বোন কল্পনা আক্তারও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আলিফ অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে লিখতেন, অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতেন না। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন।’
গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটার দিকে তেলুঞ্জিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে কয়েক গজ দূরে একটি দোকানের পাশে আলিফকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। মাথা, গলা ও বুকে ছয়টি গুলি লাগে তাঁর। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। মামলা দায়ের হলেও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার হয়নি। জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম বলেছেন, ‘সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, এসআরবিসহ একাধিক সংস্থা কাজ করছে।’
"আলিফ ছেলে-মেয়েকে খুব ভালোবাসত, অনেক আদর করত। ওরা তো আর কোনো দিন বাবার আদর পাবে না। যারা আমার সন্তানদের এতিম করেছে, বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত করেছে, আমি তাদের কঠিন শাস্তি দেখতে চাই। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা, তেলুঞ্জিয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির, আনন্দিতা সাংমা, প্রান্থি, আইয়ান সাফয়ান, শহীদুল ইসলাম ফকির, কল্পনা আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ছয়টি গুলি, চার বছরের মেয়ে, দেড় বছরের ছেলে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!