📌 চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের দুজন কর্মচারী আদালতে স্বীকার করেছেন যে, সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে তারা দলিল নিবন্ধনের বিনিময়ে ঘুষ নিয়েছেন। দুদকের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ জবানবন্দিতে ঘুষের পরিমাণ ও ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের দুজন কর্মচারী আদালতে স্বীকার করেছেন যে, সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে তারা দলিল নিবন্ধনের বিনিময়ে ঘুষ নিয়েছেন। দুদকের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও কর্মচারী উমেদার রূপণ দাশ গতকাল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা বলেছেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশেই তারা ঘুষ গ্রহণ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও কর্মচারী উমেদার রূপণ দাশ আদালতে স্বীকার করেছেন, ‘সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে আমরা ঘুষ নিয়েছি’
- 📌 দুদকের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ফারুক ইসলামের কথায়, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে ঘুষের দুই লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়েছিল, যা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে পাঠানো হত
- 📌 উমেদার রূপণ দাশের জবানবন্দিতে জানা যায়, ১৫ বছর কর্মরত থাকা সত্ত্বেও তিনি ও ফারুক ইসলাম সরকারি ফি ১৫ হাজার টাকার বদলে বাড়তি দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন
- 📌 দুদকের তদন্তে জানা যায়, একটি আইনজীবী তার মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু দলিলে কোনো ত্রুটি না থাকলেও নিবন্ধন আটকে রাখা হয়েছিল
- 📌 অভিযোগের পর দুদকের ‘হটলাইন ১০৬’ নম্বর থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে ঘুষের টাকা ও কর্মচারীদের গ্রেপ্তার করা হয়
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে দুজন কর্মচারীর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার বিকেলে দুদকের একটি দল এসে কার্যালয়ে অভিযান চালায়। তারা ঘুষের টাকা ও কর্মচারীদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পরদিন গতকাল আদালতে হাজির হওয়া ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন যে, তারা সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে ঘুষ নিয়েছেন।
ফারুক ইসলামের জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, সাবরেজিস্ট্রার নির্দেশে তিনি ও উমেদার রূপণ দাশ ঘুষের টাকা গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, প্রথমে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে নেওয়ার কথা ছিল। তবে দলিল দাতাদের একজন উপস্থিত না হওয়ায় বাসায় কমিশন যাওয়ার কথা ছিল। উমেদার রূপণ দাশের জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, তিনি ১৫ বছর কর্মরত। দলিল নিবন্ধনের সরকারি ফি ১৫ হাজার টাকা হলেও তারা বাড়তি দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) রেজাউল করিম জানান, তিনজনের মধ্যে সাবরেজিস্ট্রার ছাড়া বাকি দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা দলিল নিবন্ধনে সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। মহানগর দায়রা জজ আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
"সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশেই আমরা ঘুষ নিয়েছি। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে আমার কাছে পাঠানো হত।" — ফারুক ইসলাম
"দলিল নিবন্ধনের সরকারি ফি ১৫ হাজার টাকা হলেও আমরা বাড়তি দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছি।" — উমেদার রূপণ দাশ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফারুক ইসলাম (হেড ক্লার্ক), উমেদার রূপণ দাশ, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, আলমগীর হোসেন (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট), রেজাউল করিম (দুদকের সরকারি কৌঁসুলি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ বছর (কর্মজীবন), ১৫ হাজার টাকা (সরকারি ফি), ২ লাখ টাকা (ঘুষ), ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা (প্রথম ঘুষ), ২০ হাজার টাকা (কমিশন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!