📌 চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওসি আবু জায়েদ নাজমুন নূরকে প্রশাসনিক বদলি করা হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশে। থানার পেছনে ছিনতাই ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে
চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে প্রশাসনিক বদলি করে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) স্থানান্তর করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে থানার পেছনে ছিনতাই ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনাগুলোর পর।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২২ সেপ্টেম্বর তারিখে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কোতোয়ালি ওসি আবু জায়েদ নাজমুন নূরকে ঢাকা মহানগর পুলিশে বদলি করা হয়েছে।
- 📌 ২১ সেপ্টেম্বর তারিখে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) এম আওলাদ হোসেনের সই করা আদেশে এই বদলি করা হয়েছে।
- 📌 থানার পেছনে রিকশা যাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- 📌 ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বদলি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের ‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ হিসেবে গণ্য করা হবে যদি তারা ২২ সেপ্টেম্বর ছাড়পত্র না নেয়।
- 📌 গত ১৭ জুন থেকে আবু জায়েদ নাজমুন নূর কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার পেছনে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনা প্রশাসনিক বদলির পিছনে সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমত, গত শনিবার সকালে পাথরঘাটার সতীশ বাবু লেনে একটি রিকশায় যাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। অন্য দুজনকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
দ্বিতীয়ত, লালখানবাজার-কাজীর দেউড়ি সড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনবহুল এলাকায় নিষিদ্ধ মিছিলের ঘটনায় প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আবু জায়েদ নাজমুন নূরকে বদলির আগে গত ১ জুলাই রাতে পটিয়া থানায় ওসি থাকাকালে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের এক নেতাকে সোপর্দ করা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) নেতাকর্মীদের সঙ্গে থানা-পুলিশের বিবাদ তৈরি হয়েছিল। এই ঘটনায় অন্তত ২৩ জন আহত হন। পুলিশের দাবি ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছিল তারা।
বৈছাআ নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও ডিআইজি কার্যালয় ঘেরাও করে টানা প্রায় ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। এই ঘটনার পর আবু জায়েদকে পটিয়া থানায় থেকে প্রত্যাহার করে ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে তাকে সন্দ্বীপ এবং সর্বশেষ গত জুনে কোতোয়ালি থানায় পদায়ন করা হয়েছিল।
পুলিশ সদর দপ্তরের বদলির আদেশে আবু জায়েদের ডিএমপিতে স্থানান্তরের কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর কোনো উল্লেখ নেই। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
"আদেশে বলা হয়েছে, আবু জায়েদ নাজমুন নূরসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছাড়পত্র নিতে হবে। অন্যথায় ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে তারা ‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ হিসেবে গণ্য হবেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা, পাথরঘাটা, লালখানবাজার-কাজীর দেউড়ি সড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর, এম আওলাদ হোসেন, মনির হোসেন, বৈছাআ নেতাকর্মীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ সেপ্টেম্বর, ২১ সেপ্টেম্বর, ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৭ জুন, ১ জুলাই, ২৩ জন আহত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!