📌 চট্টগ্রামে আইও কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীদের কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগে মোজাম্মেল হক (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, প্রতারকরা ২ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আত্মসাত করেছিল
চট্টগ্রামে আইও কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীদের কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগে মোজাম্মেল হক (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানায়, প্রতারকরা বিভিন্ন মামলার বাদীদেরকে ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে গাড়িভাড়া, জ্বালানি খরচ এবং আপ্যায়নের নামে টাকা আদায় করত। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম নগরের মনসুরাবাদে পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম কে এইচ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামে আইও কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীদের কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগে মোজাম্মেল হক (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- 📌 প্রতারকরা ২ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আত্মসাত করেছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
- 📌 মোজাম্মেল হক নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকার বাসিন্দা।
- 📌 তার কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, ভুয়া সিমকার্ড ও ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।
- 📌 পিবিআই জানায়, প্রতারকরা পুলিশ, সিআইডি বা ডিবি কর্মকর্তা পরিচয়ে বাদীদেরকে টাকা আদায়ের চাপ দিত।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এক বাসিন্দা আদালতে নালিশি মামলা করার পরপরই তার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কল করেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান পরিচয় দিয়ে বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন বাদীর পক্ষে দেওয়া হবে। এ জন্য তদন্তে মাঠপর্যায়ে যেতে গাড়িভাড়া ও নাশতার খরচ প্রয়োজন। পরে ওই বাদী বিকাশে ২ হাজার টাকা পাঠান। প্রতারক আরও টাকা পাঠাতে চাপ দিলে বাদী সরাসরি চট্টগ্রাম জেলা পিবিআই কার্যালয়ে যান। সেখানে প্রকৃত এসআই আবু সুফিয়ানের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি ধরা পড়ে।
পিবিআই সুপার জানান, বাদী জানান, তিনি ইতিমধ্যে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন এবং প্রতারক আরও টাকা পাঠাতে চাপ দিচ্ছিলেন। প্রকৃত এসআই আবু সুফিয়ান নিশ্চিত করেন, ওই মোবাইল নম্বরটি তার নয় এবং পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে কোনো টাকা চাওয়া হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান থানায় একটি মামলা করা হয়। পরে মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, একটি প্রতারক চক্র আদালত থেকে বিভিন্ন মামলার বাদীদের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে তাদের ফোনে যোগাযোগ করত। প্রতারকরা পুলিশ, সিআইডি বা ডিবি কর্মকর্তা পরিচয়ে বাদীদেরকে গাড়িভাড়া, জ্বালানি খরচ কিংবা আপ্যায়নের নামে টাকা দাবি করত। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ থেকে শুরু করে মারামারির মামলার বাদীরাও এ চক্রের লক্ষ্য ছিল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোজাম্মেল হকের অবস্থান শনাক্ত করার পর শুক্রবার নোয়াখালীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
"একা একজন মানুষের পক্ষে প্রতিদিন চট্টগ্রাম আদালতের বিভিন্ন শাখার নথি সংগ্রহ করা এবং একই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব নয়। এর পেছনে আদালতের কোনো অসাধু কর্মচারী, আইনজীবী সহকারীদের কোনো সিন্ডিকেট কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ভেতরের লোক জড়িত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক রবি চন্দ্র দাস বলেন, প্রতারকদের পেছনে সম্ভবত আদালতের কোনো অসাধু কর্মচারী, আইনজীবী সহকারীদের সিন্ডিকেট বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ভেতরের লোক জড়িত থাকতে পারে। এ বিষয়ে গভীর তদন্ত চলছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম (মনসুরাবাদ পিবিআই কার্যালয়, নোয়াখালীর সুধারাম থানা, গৌরীপুর এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোজাম্মেল হক (৫০), পুলিশ সুপার এম কে এইচ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, রবি চন্দ্র দাস (পিবিআই উপপরিদর্শক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ (বয়স), ২৫ সেপ্টেম্বর (গ্রেপ্তার পূর্বের ঘটনা), ২৬ সেপ্টেম্বর (সংবাদ সম্মেলন), ২ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা (আত্মসাতের পরিমাণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!