📌 চট্টগ্রামের একজন ব্যবসায়ী নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে পরিবারকে ভীত করে রেখেছিলেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। তিনি জানান, পাওনাদারের টাকা পরিশোধ এড়াতে এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের ফাঁসানোর পরিকল্পনা ছিল
চট্টগ্রামের একজন ব্যবসায়ী নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারকে ভীত করে রেখেছিলেন। পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে নিজের অবস্থান গোপন রাখার পর পুলিশ তাঁকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পাওনাদারের টাকা পরিশোধ এড়াতে এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের ফাঁসানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের চকবাজারের ব্যবসায়ী সফি উল্লাহ নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন
- 📌 পুলিশ তাঁকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে উদ্ধার করে, রাত তিনটার দিকে
- 📌 সফি উল্লাহ জানান, পাওনাদারের টাকা পরিশোধ এড়াতে এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের ফাঁসানোর পরিকল্পনা ছিল
- 📌 পাঁচলাইশ থানায় স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার জিডি করেন, নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে গত শনিবার
- 📌 পুলিশের ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, এ ধরনের সাজানো অপহরণে পরিবার বিপদে পড়ে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের চকবাজারের একটি রেস্টুরেন্টের মালিক সফি উল্লাহ গত শনিবার চকবাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহদ্দারহাট যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে গিয়ে হাটহাজারীর ছাদেকনগর এলাকার একটি মাজারে তাঁকে পান। সেখানে অবস্থান করে সফি উল্লাহ পরিবারের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করেন। পরে মুঠোফোনের সিম পরিবর্তন করে তিনি নাজিরহাট কাউন্টার থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কেটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পুলিশ তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে করতে বাসটি মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে পৌঁছে যায়। গতকাল রাত তিনটার দিকে সেখান থেকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সফি উল্লাহ জানান, তিনি পাওনাদারের টাকা পরিশোধ না করার জন্য নিজেই অপহরণ ও মুক্তিপণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তবে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, এক পাওনাদার থানায় অভিযোগ করায় এ বিষয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ওই বৈঠকে উপস্থিত না থেকে পাওনা টাকা পরিশোধ এড়াতেই তিনি আত্মগোপনে যান। পাশাপাশি ব্যবসায়িক অংশীদারদের ফাঁসানোর পরিকল্পনাও করেছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এ ঘটনায় তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
সফি উল্লাহর স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার বলেন, তিনি বুঝতে পারছেন না কেন স্বামী নিজে আত্মগোপনে গিয়ে এসব করেছেন। পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, জিডির পর পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে সফি উল্লাহর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করে। ওসি বলেন, এ ধরনের সাজানো অপহরণের ঘটনায় প্রকৃত অপহরণের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিপাকে পড়েন।
"পাওনাদারের টাকা পরিশোধ না করার জন্য আমি নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলাম। তবে ব্যবসায়িক অংশীদারদের ফাঁসানোর পরিকল্পনা ছিলও।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের চকবাজার, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ), হাটহাজারী (ছাদেকনগর মাজার), নাজিরহাট কাউন্টার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সফি উল্লাহ (ব্যবসায়ী), ওসি মোজাম্মেল হক, ইয়াছমিন আক্তার (স্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: পাঁচ লাখ টাকা (মুক্তিপণ), রাত তিনটার দিকে (উদ্ধার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!