📌 চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় 'ফ্রেন্ডস অব ডিসাবেল সোসাইটি' নামে পরিচিত তিনজন ব্যক্তি এনজিওর ভাড়া ভবন থেকে গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। অন্তত ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রাহকরা জামানত ফেরত চাইছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ খোঁজ নিচ্ছে
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একটি ভাড়া ভবন থেকে ঋণ প্রতারণায় গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে তিনজন ব্যক্তি। এনজিওর ভাড়া ভবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার রাতে। গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তারা বুধবার সন্ধ্যা থেকে মোবাইল বন্ধ করে দিয়েছে। আজ শনিবার পর্যন্ত গ্রাহকরা জামানত ফেরত চেয়ে ভবনের সামনে অবস্থান করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নে 'ফ্রেন্ডস অব ডিসাবেল সোসাইটি' নামে পরিচয় দিয়ে তিনজন (১ নারী, ২ পুরুষ) ঋণ প্রতারণা চালিয়েছে
- 📌 গ্রাহকদের ১০ হাজার টাকা জামানত দিলে এক লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে অন্তত ৫০ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে
- 📌 ভাড়া ভবনের মালিক নুরুল কবির জানান, আলী নেওয়াজ খান নামের ব্যক্তি ভাড়া নিয়ে পালিয়ে গেছেন, কিন্তু তাঁর ফোন বন্ধ
- 📌 স্থানীয় ইউপি সদস্য ফয়েজ খান বলেন, ২০ জনেরও বেশি গ্রাহক থেকে ১০-২০ হাজার টাকা করে আত্মসাত হয়েছে
- 📌 আনোয়ারা থানা খোঁজ নিচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত আর কেউ অভিযোগ করেননি
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মাল ঘর বাজারসংলগ্ন এলাকায় গত চার দিন আগে একটি ভবনের দুটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে 'ফ্রেন্ডস অব ডিসাবেল সোসাইটি' (এফডিএস) নামে পরিচয় দিয়ে তিনজন ব্যক্তি ঋণ দেওয়ার কার্যালয় খোলেন। এনজিওর ব্যানার টানিয়ে কার্যালয়ের সামনে চেয়ার ও টেবিল দিয়ে কার্যালয়ের মতো সাজানো হয়েছিল। তবে এনজিওর কার্যালয় আনোয়ারায় না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে তাদের বিশ্বাস করেননি।
তিনজন ব্যক্তির মধ্যে একজন নারী এবং দুজন পুরুষ। তারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাসিন্দাদের জানান, মাত্র ১০ হাজার টাকা জামানত দিলে এক লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হবে। আর ২০ হাজার টাকা জামানত দিলে দুই লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলা হত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঋণ দেওয়ার কথা বলে তারা অন্তত ৫০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন।
প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চুন্নাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হালিম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এক লাখ টাকা ঋণের জন্য ১০ হাজার টাকা বুধবার বিকাশে পাঠিয়েছি। আগামীকাল রোববার আমাকে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাঁদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরে আজ অফিসে গিয়ে দেখি তালা দেওয়া।’
একই এলাকার কামরুন্নাহার বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে আমাদের পাড়ায় একজন পুরুষ ও একজন নারী এসে ঋণ দেওয়ার কথা বলে পাড়ার লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করেন। কেউ কেউ তাঁদের অফিস দেখে ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আমিও বুধবার সকালে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু রাতে খবর পাই মোবাইল বন্ধ করে তাঁরা পালিয়ে গেছেন।’
ভবনের মালিক নুরুল কবির জানান, আলী নেওয়াজ খান নামের ব্যক্তি তাঁর কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে দুটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে ভাড়া না দিয়েই পালিয়ে যাওয়ার পর তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় হাইলধর ইউপি সদস্য ফয়েজ খান বলেন, ‘আমার কাছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২০ জন গ্রাহক এসেছেন। তাঁদের কাছ থেকে ১০ ও ২০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আমি ভুক্তভোগীদের থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, এনজিওর ভাড়া ভবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ভবনের মালিক তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে আর কেউ এ নিয়ে অভিযোগ করেননি। এ বিষয়ে তাঁরা খোঁজ নিচ্ছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানানো হয়েছে।
"আমি এক লাখ টাকা ঋণের জন্য ১০ হাজার টাকা বুধবার বিকাশে পাঠিয়েছি। আগামীকাল রোববার আমাকে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাঁদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরে আজ অফিসে গিয়ে দেখি তালা দেওয়া।"
"এক সপ্তাহ আগে আমাদের পাড়ায় একজন পুরুষ ও একজন নারী এসে ঋণ দেওয়ার কথা বলে পাড়ার লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করেন। কেউ কেউ তাঁদের অফিস দেখে ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আমিও বুধবার সকালে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আনোয়ারা উপজেলা, চট্টগ্রাম (হাইলধর ইউনিয়ন, মাল ঘর বাজার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. হালিম, কামরুন্নাহার, নুরুল কবির, ফয়েজ খান, আলী নেওয়াজ খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ লাখ টাকা (আত্মসাত), ১০ হাজার টাকা (জামানত), ২০ জন (গ্রাহক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!