📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালুবাগান এলাকায় জাল ভারতীয় রুপি তৈরির মামলায় বাড়ির মালিক শহিদুল ইসলামের সিসিটিভি ফুটেজে জাল নোট তৈরির কক্ষে উপস্থিতি সন্দেহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মামলায় তার নাম নেই। র্যাবের অভিযানে ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালুবাগান এলাকায় জাল ভারতীয় রুপির তৈরির মামলায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজে বাড়ির মালিক শহিদুল ইসলামের জাল নোট তৈরির কক্ষে উপস্থিতি সন্দেহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে গত ৮ আগস্টের র্যাবের অভিযানে জাল নোট ও সরঞ্জাম জব্দের মামলায় তার নাম নেই। মামলায় আসামি হিসেবে বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. খান সাহেবসহ তিনজনকে দায়ের করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিসিটিভি ফুটেজে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাড়ির মালিক শহিদুল ইসলামকে জাল নোট তৈরির কক্ষে অবস্থান করতে দেখা গেছে। ফুটেজে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলা ও নির্দেশনা দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে।
- 📌 ৮ আগস্টের র্যাব অভিযানে ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল ভারতীয় রুপি ও তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৫০০ রুপির ২৩টি বান্ডিল ও ২০০ রুপির ২টি বান্ডিল ছিল।
- 📌 মামলায় আসামি হিসেবে বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. খান সাহেবসহ শিবগঞ্জের তৌসিকুল ইসলাম তোসিফ (৩০) ও নওগাঁর শামীম আলী (৩২) দায়ের করা হয়েছে। তবে মালিক শহিদুল ইসলামের নাম মামলায় নেই।
- 📌 শহিদুল ইসলাম সিসিটিভি ফুটেজে নিজেকে স্বীকার করেছেন, কিন্তু জাল নোট তৈরির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার এক-দু’মাস আগে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন এবং ভাড়াটিয়াকে বাড়ি ছাড়তে বলেছেন।
- 📌 মো. খান সাহেব জাল নোট তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার ভাড়া নেওয়া কক্ষে কোনো জাল নোট বা সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি।
- 📌 তদন্ত কর্মকর্তা মো. সাকিল হোসেন বলেছেন, সিসিটিভি ফুটেজের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। মামলায় তিনজন আসামি থাকলেও অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আসামি করা হবে।
📰 বিস্তারিত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বালুবাগান এলাকায় একটি বাড়িতে জাল ভারতীয় রুপি তৈরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে বাড়ির মালিক শহিদুল ইসলামের অদ্ভুত উপস্থিতি সন্দেহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফুটেজে শহিদুল ইসলামকে জাল নোট তৈরির কক্ষে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলা ও নির্দেশনা দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। তবে গত ৮ আগস্টের র্যাবের অভিযানে জাল নোট ও সরঞ্জাম জব্দের মামলায় তার নাম নেই।
র্যাবের অভিযানে ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকার মূল্যমানের জাল ভারতীয় রুপি ও তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৫০০ রুপির ২৩টি বান্ডিল ও ২০০ রুপির ২টি বান্ডিল ছিল। এছাড়া জাল নোট তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিদেশি জাল সুতা, ড্রাফটিং কাগজ, ধাতব ডাইস, রাবার, রঙের কেমিকেল, ল্যাপটপ, সিপিইউ, দুটি কালার প্রিন্টার ও হিটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। অভিযানে শিবগঞ্জ উপজেলার তৌসিকুল ইসলাম তোসিফ (৩০) ও নওগাঁর শামীম আলী (৩২) আটক হন। পরে বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. খান সাহেবসহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজটি ফেব্রুয়ারি মাসের বলে জানা গেছে। ফুটেজে শহিদুল ইসলামকে জাল নোট তৈরির কক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়। প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিওতে শহিদুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, তিনি ফুটেজে থাকা ব্যক্তি। তবে তিনি জাল নোট তৈরির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, র্যাবের অভিযানের প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে তিনি জাল নোট তৈরির বিষয়টি জানতে পারেন এবং ভাড়াটিয়াকে বাড়ি ছাড়তে বলেন। ঘটনার সময় তিনি শিবগঞ্জের খাসেরহাটে ছিলেন বলে দাবি করেছেন।
মামলার প্রধান আসামি মো. খান সাহেবও জাল নোট তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি ওই বাড়িতে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং অন্য কক্ষে কী কর্মকাণ্ড চলত তা জানতেন না। তিনি আরও দাবি করেছেন, বাড়ির মালিকের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। খান সাহেব বলেছেন, ঘটনার দিন ওষুধ আনতে বাইরে গেলে বাড়িতে র্যাবের অভিযান চলছে বলে তাকে ফোনে জানানো হয়। পরে বিপুল পরিমাণ জাল ভারতীয় রুপি উদ্ধারের খবর পান। তার ভাড়া নেওয়া কক্ষে কোনো জাল নোট বা সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
"সিসিটিভি ফুটেজটি আমিও দেখেছি। তবে এটি আরও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলায় তিনজন আসামি থাকলেও তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আসামি করা হবে।"
— মো. সাকিল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বালুবাগান এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শহিদুল ইসলাম, মো. খান সাহেব, তৌসিকুল ইসলাম তোসিফ, শামীম আলী, মো. সাকিল হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা, ৫০০ রুপির ২৩টি বান্ডিল, ২০০ রুপির ২টি বান্ডিল, ৩০ বছর (তৌসিকুল ইসলাম), ৩২ বছর (শামীম আলী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!