📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে বুয়েটের সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার মুখতারুজ্জামান বাবা-মায়ের ১২ বিঘা সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগে বৃদ্ধা মা রহিমা খাতুন ও পরিবারের সদস্যরা আদালতে মামলা করেছেন। স্থানীয় সালিশে সমাধান না হওয়ায় বিরোধ বাড়ছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বৃদ্ধা রহিমা খাতুন মনোয়ারা রেফুলের জীবন আজ দিনমজুরের কাজে ভরপুর। টিনের চালার ফুটো, দেয়ালের ফাটল এবং ঘুণে নষ্ট হয়ে যাওয়া কাঠের অংশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তিনি দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু তার এই দুঃখের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে নিজের সন্তান মুখতারুজ্জামান—বুয়েটের সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার। রহিমা খাতুনের অভিযোগ, তার ছেলে বাবা-মায়ের ১২ বিঘা সম্পত্তির বড়ো অংশ নিজের নামে লিখে নেওয়ার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের বঞ্চিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বুয়েট কর্মকর্তা মুখতারুজ্জামান বাবা-মায়ের ১২ বিঘা সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগে বৃদ্ধা মা রহিমা খাতুন আদালতে মামলা করেছেন
- 📌 স্থানীয় সালিশ ও থানায় অভিযোগ দিলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি
- 📌 রহিমা খাতুনের বাসভবন জরাজীর্ণ, টিনের চালা ও ফাটলযুক্ত দেয়ালে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন
- 📌 মুখতারুজ্জামানকে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি
- 📌 পরিবারের সদস্যরা দাবি, বাবা-মায়ের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
রহিমা খাতুনের স্বামী মৃত্যুবরণ করেছেন। তার রেখে যাওয়া ধান ও আমের জমি, বসতভিটা এবং প্রায় ১২ বিঘা সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মুখতারুজ্জামান অন্য সন্তানদের বঞ্চিত করে এসব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে তার ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেন মাকে নিয়ে বাপ-দাদার পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করছেন। কিন্তু ওই বাড়ি থেকেও তাদের উচ্ছেদের জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে। থানায় এবং জেলা লিগ্যাল এইড অফিসেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো উদ্যোগেই স্থায়ী সমাধান হয়নি। বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল হক কমল জানান, সালিশে সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও অভিযুক্ত মুখতারুজ্জামান তা মানতে রাজি হননি।
রহিমা খাতুনের সাত সন্তানের মধ্যে তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে বিরোধ চান না তিনি। জীবনের শেষ সময়ে শান্তিতে নিজের বাড়িতে থাকতে চান। কিন্তু মুখতারুজ্জামানের এই কাজের ফলে পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক নষ্টের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
"সন্তানদের মধ্যে বিরোধ চান না। জীবনের শেষ সময়ে শান্তিতে নিজের বাড়িতে থাকতে চাই।"
মুখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত কয়েকটি মোবাইলফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রহিমা খাতুন মনোয়ারা রেফুল, মুখতারুজ্জামান (বুয়েট কর্মকর্তা), ইসমাইল হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ বিঘা (সম্পত্তি), ৭ সন্তান (রহিমা খাতুনের)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!