📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জে ছয় বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যার আসামিকে জেলা আইনজীবী সমিতি আইনি সহায়তা দেবেনা। শিশুর পরিবার ও স্থানীয়রা ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। অভিযুক্ত তরুণ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এবং জেলে পাঠানো হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জে ছয় বছর বয়সী একটি শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিকে আইনি সহায়তা দেবেনা ঘোষণা করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। শিশুর পরিবার ও স্থানীয়রা আজ রোববার আসামির ফাঁসির দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান জানান, শিশুর স্বজনদের পক্ষে দাঁড়ানোর কোনো যুক্তি নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতি ঘোষণা: আসামিকে কোনো আইনি সহায়তা দেবেনা
- 📌 ছয় বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় আসামি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন
- 📌 শিশুর মা বাদী হয়ে ধর্ষণ ও হত্যার মামলা করেছেন, আসামি হিসেবে চাচাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে
- 📌 অভিযুক্ত তরুণকে পুলিশ হেলমেট পরিয়ে গাড়িতে তুলে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে
- 📌 বিয়ের অনুষ্ঠানে শিশুকে পানি এনে দিতে বলে অভিযুক্ত তরুণ তাকে নিজ ঘরে নিয়ে যান, সেখানে ধর্ষণ ও হত্যা করেন
- 📌 স্থানীয়রা অভিযুক্ত তরুণকে আটক করে গণপিটুনি দেয়, পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেন
- 📌 অভিযুক্ত তরুণ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, ইতিপূর্বেও যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, তার পাশে আইনজীবীরা দাঁড়ায়নি। ছয় বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ শেষে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে শিশুর স্বজন, তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি আরও বলেন, আমাদের কোনো আইনজীবী গ্রেপ্তার আসামির পক্ষে দাঁড়িয়ে তাঁকে আইনি সহায়তা দেবে না। বরং এ ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রুত সম্পাদন করতে সব আইনজীবী কাজ করবেন।
শিশুর মা–সহ পরিবার-পরিজন ও স্থানীয় গ্রামবাসী আজ দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতিতে আসেন এবং আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার জন্য লিখিতভাবে অনুরোধ করেন। পরে তারা ব্যানার নিয়ে আসামির ফাঁসির দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন। নিহত শিশু আশুগঞ্জের স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় নাজেরা বিভাগে পড়তেন।
সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অভিযুক্ত তরুণ দুপুরে শিশুটিকে পানি এনে দিতে বলে নিজ ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পালানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তরুণকে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় লোকজন। শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে তিন থেকে চার হাজার লোক অভিযুক্ত তরুণকে একটি বাড়িতে ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত তরুণকে ছিনিয়ে নিতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে তাদের কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্ত তরুণকে হেলমেট পরিয়ে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
"আমাদের কোনো আইনজীবী গ্রেপ্তার আসামির পক্ষে দাঁড়িয়ে তাঁকে আইনি সহায়তা দেবে না। বরং এ ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রুত সম্পাদন করতে সব আইনজীবী কাজ করবেন।"
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, অভিযুক্ত তরুণ ধর্ষণ শেষে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (পঞ্চম আদালত) ওমর ফারুক অভিযুক্ত তরুণের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নথিভুক্ত করেছেন। পরে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, আশুগঞ্জ উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ মফিজুর রহমান (জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি), শিশুর মা, অভিযুক্ত তরুণ, হাবিবুল্লাহ সরকার (পুলিশ পরিদর্শক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৪ (ধারা), ৬ বছর (শিশুর বয়স), ৩-৪ হাজার (বিক্ষোভকারী লোক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!