📌 বরিশালে সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার নাজমুল হক আদালত ভবনের ছয়তলা থেকে পড়ে আত্মহত্যা করেন। পরিবার দাবি করে পরিকল্পিত হত্যা, কিন্তু অধ্যক্ষ দাবি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নাজমুলকে হেনস্তা করা হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যেও ঘটে ধাক্কাধাক্কি
বরিশালে সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার নাজমুল হকের মৃত্যুতে নতুন তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। আদালত ভবনের ছয়তলা থেকে পড়ে মৃত্যুবরণকারী নাজমুলের বিরুদ্ধে কলেজ কর্তৃপক্ষ ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু পরিবার দাবি করে, এই অভিযোগের পিছনে নাজমুলকে হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নাজমুল হক আদালত ভবনের ছয়তলা থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন; পরিবার দাবি করে পরিকল্পিত হত্যা
- 📌 কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি: নাজমুল ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন; অডিট আপত্তি থাকায় তাকে কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা হয়
- 📌 নাজমুলের পরিবার জানায়, অধ্যক্ষ তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করতেন; সোমবার চাবি নিয়ে নেওয়া হয়
- 📌 নাজমুলের মৃত্যু ঘটার আগে তিনি ফকিরবাড়ি রোডের একটি সাততলা ভবনে উঠতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মালিক তা দেননি
- 📌 নারায়ণগঞ্জে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার বিকেলে বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ছয়তলা থেকে পড়ে নাজমুল হকের মৃত্যু ঘটে। নাজমুলের নিকটাত্মীয় সিরাজুল ইসলাম জানান, তিন বছর আগে নাজমুল সরকারি মহিলা কলেজে ক্যাশিয়ার পদে যোগ দেন। কিন্তু সম্প্রতি কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে। এই অভিযোগের কারণে কলেজে ঝামেলা চলছিল।
সিরাজুল ইসলামের কথায়, কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুস সালাম নাজমুলকে তাঁর বাবার সামনে একাধিকবার শারীরিকভাবে হেনস্তা করতেন। সোমবার তাঁর কাছ থেকে অফিসের সব চাবি নিয়ে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার নাজমুলকে কলেজে ডেকে নেওয়া হয়েছিল, পরে তিনি আদালত ভবনের ওপর থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরিবার বিশ্বাস করে, নাজমুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
অধ্যক্ষ ড. আব্দুস সালামের দাবি, নাজমুল শিক্ষার্থী ভর্তির টাকা ট্রেজারি চালানে জমা না দিয়ে আত্মসাত করেছেন। অডিট আপত্তি থাকায় তাঁকে কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা হয়। সকালে নাজমুল কলেজে এসেছিলেন, কিন্তু কখন বের হয়ে যান তা নিশ্চিত করা যায়নি। পরে দুপুরের পর আদালত ভবনের ওপর থেকে লাফ দিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। অধ্যক্ষ আরও জানান, নাজমুল ফকিরবাড়ি রোডের একটি সাততলা ভবনে উঠতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মালিক তা দেননি।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, নাজমুলের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জানা গেছে, কিন্তু পরিবারের হত্যার অভিযোগ নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এই ঘটনার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ভবনে বিএনপিপন্থী দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের উপস্থিতিতে ঘটনাটি ঘটে।
"এসব বিষয় নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ নাজমুলকে তাঁর বাবার সামনে একাধিকবার শারীরিকভাবে হেনস্তা করতেন। সোমবার তাঁর কাছ থেকে অফিসের সব চাবি নিয়ে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার নাজমুলকে কলেজে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। পরে আদালত ভবনের ওপর থেকে লাফ দিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।" — সিরাজুল ইসলাম, নাজমুলের নিকটাত্মীয়
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, ফকিরবাড়ি রোড, বরিশাল; নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ভবন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাজমুল হক (ক্যাশিয়ার), সিরাজুল ইসলাম (নিকটাত্মীয়), ড. আব্দুস সালাম (অধ্যক্ষ), অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান (বিএনপি আহ্বায়ক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা (আত্মসাতের অভিযোগ), ছয়তলা (আদালত ভবন), সাততলা (ফকিরবাড়ি রোডের ভবন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!