📌 বগুড়া জেলা পুলিশের টিএ বিল জালিয়াতিতে সরকারি অর্থ আত্মসাত হয়েছে ৩ কোটি টাকা ছাড়িয়ে। তদন্তে ৩০ পুলিশ সদস্যের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে জাল বিল তৈরি করা হয়েছিল
বগুড়া জেলা পুলিশের টিএ বিল জালিয়াতির ঘটনায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ ইতিমধ্যে তিন কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই জালিয়াতির ঘটনায় প্রায় ৩০ পুলিশ সদস্যের নাম তদন্তে এসেছে, তাদের মধ্যে ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের কম্পিউটার আইডি অন্য কেউ ব্যবহার করে জাল বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি এসেছে আলোতে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বগুড়া পুলিশের টিএ বিল জালিয়াতিতে সরকারি অর্থ আত্মসাত হয়েছে ৩ কোটি টাকা ছাড়িয়ে
- 📌 পুলিশ সুপারের কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে জাল বিল তৈরি করা হয়েছিল
- 📌 তদন্তে ৩০ পুলিশ সদস্যের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে
- 📌 ফিরোজ আলম ও রাজিবুল ইসলামের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি
- 📌 বগুড়া জেলা পুলিশের দুই হাজার সদস্যের টিএ বিল রেজিস্টার যাচাই করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
বগুড়া জেলা পুলিশের বিভিন্ন বিল-ভাউচারে জালিয়াতির ঘটনায় গঠন করা তদন্ত কমিটি সূত্রে জানিয়েছে, ভুয়া টিএ বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ ইতিমধ্যে তিন কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এই ঘটনায় বগুড়া জেলা পুলিশের সাবেক ও বর্তমান কর্মরত প্রায় ৩০ সদস্যের নাম তদন্তে এসেছে। এ ঘটনায় মাসের পর মাস সরকারি দায়িত্ব পালন করেও ভ্রমণ ভাতা পাচ্ছিলেন না অনেক পুলিশ সদস্য। অথচ এই খাতে বরাদ্দ আসছিল নিয়মিত, দ্রুতই শেষ হয়ে যাচ্ছিল সেই অর্থ।
পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ জানান, গত ১৯ আগস্ট সকালে তিনি দেখতে পান তাঁর কম্পিউটার আইডিতে অস্বাভাবিকতা রয়েছে। ধারণা হয়, অন্য কেউ তাঁর আইডি ব্যবহার করেছে। বিষয়টি তিনি জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে জানান। আইডির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর অনুসন্ধানে দেখা যায়, পুলিশ সুপারের আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন পুলিশ সদস্যের নামে টিএ বিল তৈরি করে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী রাজিবুল ইসলাম ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিটর ফিরোজ আলমের নাম সামনে এসেছে।
জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত আরও ছয় সদস্যের ব্যাংক হিসাব যাচাই করে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এরপরই তদন্তের পরিধি বাড়তে থাকে। এই ঘটনার পর গত ২৬ আগস্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তদন্ত কমিটির একজন সদস্য বলেন, ১ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু করার পর একের পর এক পুলিশ সদস্যের নাম সামনে আসতে থাকে। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
"জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন পুলিশ সদস্য দাবি করেন, তাঁদের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হলেও পরে সেই অর্থ তুলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী রাজিবুল ইসলাম ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিটর ফিরোজ আলমের হাতে দিতে হয়েছে।"
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশ সদস্যদের এসব বক্তব্য যাচাই করতে ব্যাংক লেনদেন, টিএ বিল, রেজিস্ট্রার ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের নথি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ফিরোজ আলম ও রাজিবুল ইসলামের ব্যাংক হিসাবে এসব টাকা জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফিরোজ আলমকে রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
জালিয়াতির পরিধি জানতে বগুড়া জেলা পুলিশের দুই হাজারের বেশি সদস্যের টিএ বিল রেজিস্টার যাচাই করা হচ্ছে। পুরোনো বিল, বরাদ্দ, হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠানো কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক লেনদেন মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, জেলা পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বগুড়া জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান সরকার জানান, জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বগুড়া জেলা পুলিশ সদর দপ্তর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, ফিরোজ আলম, রাজিবুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ কোটি টাকা (আত্মসাত), ৩০ পুলিশ সদস্য (তদন্তে), ২০ পুলিশ সদস্য (জিজ্ঞাসাবাদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!