📌 বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ মনিরুজ্জামান বদলি হয়ে এজলাসে বসে মামলার শুনানি শুরু করলে বিএনপি-পন্থী আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাস কামরায় চলে যান। পুলিশ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে
বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ মনিরুজ্জামান বদলি হয়ে এজলাসে বসে মামলার শুনানি শুরু করলে বিএনপি-পন্থী আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে এজলাসে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাস কামরায় চলে যান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ মনিরুজ্জামান বদলি হয়ে এজলাসে বসে মামলার শুনানি শুরু করলে বিএনপি-পন্থী আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কি হয়
- 📌 বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতির নেতারা বিচারকের আদালত বর্জনের ঘোষণা দিলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা বাধা দিতে এসেছিলেন
- 📌 শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী আব্দুল ওয়াহাবের নেতৃত্বে জুনিয়র আইনজীবীরা বার সমিতির সভাপতি রেজাউর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে এজলাস থেকে বের করে দেন
- 📌 বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাস কামরায় চলে যান এবং পরে পুলিশ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে
- 📌 বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মনিরুজ্জামান সরকারদলীয় নেতাকে ম্যানেজ করে আবার বদলির আদেশ পেয়েছেন
📰 বিস্তারিত
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বগুড়া আদালতের কর্মচারী ও আইনজীবীরা তৎকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান এবং জেলা ও দায়রা জজ মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন। পরে দুজনকেই বগুড়া থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে জেলা ও দায়রা জজ মোজাম্মেল হককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এরপর মনিরুজ্জামান জেলা ও দায়রা জজ পদে পদোন্নতি পেয়ে বগুড়ায় বদলির আদেশ পান। বুধবার তিনি বগুড়ায় যোগদান করে দুপুরের দিকে এজলাসে বসেন। এ সময় বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতির নেতারা তাঁর আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়ে এজলাসে মামলার শুনানিতে বাধা দেন।
বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, মনিরুজ্জামান বগুড়ায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। বিএনপির নেতা-কর্মীদের জামিন না দিয়ে মাসের পর মাস কারাগারে রাখার অভিযোগে ৫ আগস্টের পর আইনজীবী ও আদালতের কর্মচারীরা তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন। তিনি বলেন, বগুড়া থেকে প্রত্যাহার হওয়ার পর তিনি সরকারদলীয় কোনো নেতাকে ম্যানেজ করে আবার বগুড়ায় জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বদলির আদেশ নিয়েছেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাবের নেতৃত্বে কয়েকজন জুনিয়র আইনজীবী বার সমিতির সভাপতি রেজাউর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে এজলাস থেকে বের করে দেন। তবে আব্দুল ওয়াহাব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আদালত বর্জনের কর্মসূচির সঙ্গে তাঁরা একমত ছিলেন। বিচারক এজলাসে বসলে তাঁরা মামলার শুনানি শুরু করেন। পরে বার সমিতির নেতারা বাধা দিতে এলে হট্টগোল হয়।
"আমি ১৯৮৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করেছি। বগুড়া জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহসভাপতিও ছিলাম। এখনো সংগঠনটির উপদেষ্টা। অথচ আব্দুল ওয়াহাবের নেতৃত্বে কয়েকজন জুনিয়র আইনজীবী বার সমিতির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এজলাসে হট্টগোল করেছেন এবং সভাপতিকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন।"
বগুড়া আদালত পুলিশের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে পুলিশ গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনিরুজ্জামান (জেলা ও দায়রা জজ), রফিকুল ইসলাম (বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক), আব্দুল ওয়াহাব (শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২:৩০ (টার), ৫ (আগস্টের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!