📌 বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পবা জোনের একটি মেকানিক মোতাহার হোসেনকে ভুয়া ভাউচার জমা দিয়ে প্রায় ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পবা জোনে একটি মেকানিকের দুর্নীতির অভিযোগে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মোতাহার হোসেন নামের এই কর্মচারীকে ৮ অক্টোবর কর্মস্থল থেকে সরিয়ে পঞ্চগড় জোনে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিএমডিএর মেকানিক মোতাহার হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
- 📌 ২০১৪-১৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিকাশ, রকেট ও জনতা ব্যাংকের ভুয়া ভাউচার জমা দিয়ে আত্মসাত করা হয়েছে ২৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
- 📌 ৮ অক্টোবর তারিখে মোতাহার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং পঞ্চগড় জোনে স্থানান্তরিত করা হয়।
- 📌 ২০ জুলাই তারিখে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়, কিন্তু জবাব সন্তোষজনক হয়নি।
- 📌 ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মিটার তথ্য যাচাইতে কোনো চেকিং কার্ড ব্যবহৃত হয়নি।
- 📌 ২১ ও ২৮ সেপ্টেম্বর তারিখে তাঁকে কৈফিয়ত তলব করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
📰 বিস্তারিত
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পবা জোনের একটি সহকারী মেকানিক মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি সেচযন্ত্রের প্রিপেইড মিটার রিচার্জের ভুয়া ভাউচার জমা দিয়ে প্রায় ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে মোতাহার হোসেনকে ৮ অক্টোবর বরখাস্ত করা হয়। এছাড়াও তাঁকে পঞ্চগড় জোনে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তদন্তে দেখা যায়, মোতাহার হোসেন ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসের বেশি সময় একটি গভীর নলকূপের প্রিপেইড মিটার তথ্য যাচাই করতে কোনো চেকিং কার্ড ব্যবহার করেননি। এরপর ২০ জুলাই তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি ২৬ জুলাই জবাব দেন, কিন্তু তা সন্তোষজনক ছিল না। এরপর ২৭ জুলাই তাঁর বরাদ্দ করা সেচযন্ত্রের বরাদ্দ আদেশ স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর বরাদ্দ করা গভীর নলকূপগুলোর প্রিপেইড মিটারের রিচার্জের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে আসে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিকাশ, রকেট ও জনতা ব্যাংকের ডিলার পয়েন্টের পেমেন্ট স্লিপ ও ভাউচার জমা দিয়ে মোট ২৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। বিষয়টি ধরা পড়ার পর ১৮ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাঁকে কৈফিয়ত তলব করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা তাঁর কর্মকাণ্ডকে অসদাচরণ, পলায়ন, অর্থ আত্মসাত ও দুর্নীতির অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
"মোতাহার অফিস থেকে টাকা নিয়ে সেচযন্ত্রের জন্য বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতেন। তখন দুই অর্থবছরে প্রায় ২৪ লাখ টাকা রিচার্জ না করেই ভুয়া ভাউচার ও স্লিপ জমা দিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"
বিএমডিএর পবা জোনের সহকারী প্রকৌশলী জামিনুর রহমান বলেছেন, মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্ত হবে। তদন্তে যদি আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিএমডিএ পবা জোন, নওহাটা পৌরসভা, সিন্দুরঝুসুম্বী মৌজা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোতাহার হোসেন (সহকারী মেকানিক), জাহাঙ্গীর আলম খান (বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক), জামিনুর রহমান (সহকারী প্রকৌশলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ লাখ টাকা (আত্মসাত), ২৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা (ভুয়া ভাউচার), ৮ অক্টোবর (বারখাস্ত তারিখ), ১২ নভেম্বর-৪ এপ্রিল (মিটার তথ্য যাচাই সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!