📌 বিডিআর হাসপাতালের সাবেক মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নজরুল ইসলামের মৃত্যুর সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জবানবন্দিতে জানা যায়, জিয়াউল আহসান সরাসরি এই প্রতিবেদনগুলোর প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছেন
বিডিআর হাসপাতালের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড হাসপাতাল) সাবেক মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নজরুল ইসলামের মৃত্যুর সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হয়নি। এই তথ্য উন্মোচিত হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জবানবন্দিতে। তিনি জানান, এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করার প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত ছিলেন র্যাবের (বর্তমানে এসআরবি) সাবেক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিডিআর হাসপাতালের সাবেক মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নজরুল ইসলামের মৃত্যুর সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হয়নি
- 📌 জিয়াউল আহসান সরাসরি এই প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণে হস্তক্ষেপ করেছেন
- 📌 বলপূর্বক গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ গোপন রাখা হতো
- 📌 কাউকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হতো, আবার কাউকে বনদস্যু নির্মূলের নামে হত্যা করে সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করা হতো
- 📌 কাউকে গুলি করে পেট ফেড়ে নদীতে তলিয়ে দেওয়া হতো
- 📌 বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জনগণের সামনে চলে আসলে প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বৈধতা দেওয়া হতো
- 📌 জিয়াউল আহসান ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ও এডিজি (অপস) হিসেবে কর্মরত ছিলেন
- 📌 জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে
📰 বিস্তারিত
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জবানবন্দিতে জানা যায়, বলপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের শেষ পরিণতি অজানা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হতো, আবার কাউকে বনদস্যু নির্মূলের নামে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করা হতো। কিছু ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন আটক রাখার পর মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হতো। কাউকে গুলি করে হত্যা করা হতো, আবার কাউকে গুলি করে পেট ফেড়ে নদীতে তলিয়ে দেওয়া হতো।
তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়ন্ত্রিত নির্বাহী তদন্ত প্রতিবেদন প্রদানের স্বার্থে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার উদ্দেশ্যে প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন রাখা হতো। তিনি উল্লেখ করেন, নজরুল ইসলামের মৃত্যুর সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হয়নি, যার সঙ্গে জিয়াউল আহসান সরাসরি জড়িত ছিলেন।
জিয়াউল আহসান ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এবং র্যাবের এডিজি (অপস) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই সময়ে তিনি বলপূর্বক অসংখ্য গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
"বলপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল, তা তাঁদের অজানাই রয়ে গেছে। বলপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের কাউকে কাউকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হতো। আবার কাউকে কাউকে বনদস্যু নির্মূলের অভিযানের নামে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করা হতো।" — মো. রফিকুল ইসলাম, তদন্ত কর্মকর্তা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিডিআর হাসপাতাল (বর্তমানে বর্ডার গার্ড হাসপাতাল), ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নজরুল ইসলাম (সাবেক মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট), জিয়াউল আহসান, মো. রফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০৯-২০১৬ (জিয়াউল আহসানের কর্মকাল), শতাধিক (গুম ও হত্যার অভিযোগ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!