📌 ৪৮তম বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েও ভেরিফিকেশন রিপোর্টের কারণে ছয় তরুণ চিকিৎসক নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন। তাদের মধ্যে অন্যতম অর্ঘ্য প্রতিম ঘোষ, সর্পিতা সাহা, তন্ময় নন্দী, আবু মুছা, সাখাওয়াত হোসেন ও প্রসেনজিৎ নাগ। দেশে চিকিৎসকের ঘাটতি মেটাতে সরকারি পদে তাদের নিয়োগ আটকে রাখা মানুষের চিকিৎসা অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলেছে
বাংলাদেশে চিকিৎসকের ঘাটতি মেটাতে ৪৮তম বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েও ভেরিফিকেশন রিপোর্টের কারণে ছয় তরুণ চিকিৎসক নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন। তাদের মধ্যে অন্যতম শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন শেষ করা অর্ঘ্য প্রতিম ঘোষ, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সর্পিতা সাহা, তন্ময় নন্দী, আবু মুছা, সাখাওয়াত হোসেন ও প্রসেনজিৎ নাগ। এই ছয়জনকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে গেজেটে। তাদের মধ্যে তিনজনের ভেরিফিকেশনের সঙ্গে একজন সহকারী পুলিশ পরিদর্শক জড়িত ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৮তম বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় ৪১ হাজার ২৫ জন আবেদন করে ৫ হাজার ২০৬ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ২৬৩ জন চূড়ান্ত মনোনয়ন পান, কিন্তু গেজেটে ছয়জনকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়।
- 📌 ইন্টার্ন শেষ করা ১৯১ জন চিকিৎসক থেকে ৬ জনকে ভেরিফিকেশন রিপোর্টের কারণে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম অর্ঘ্য প্রতিম ঘোষ, সর্পিতা সাহা, তন্ময় নন্দী, আবু মুছা, সাখাওয়াত হোসেন ও প্রসেনজিৎ নাগ।
- 📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশে চিকিৎসকের প্রয়োজন ৮৮ হাজার ৯০৯ জন। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে শূন্য পদ রয়েছে ১১ হাজার ৪৯৫টি।
- 📌 একজন চিকিৎসক বানাতে রাষ্ট্রের বিনিয়োগ হয় ১৫ লাখ টাকা। ছয়জন চিকিৎসককে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যের রিপোর্টের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ।
📰 বিস্তারিত
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন শেষ করা অর্ঘ্য প্রতিম ঘোষের ফেসবুকে দেখা যায়, তিনি ইন্টার্নরত অবস্থায় রোগী ও সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি রক্ত দিচ্ছেন, গান গাইছেন, ছবি আঁকছেন, বাঁশি বাজাচ্ছেন। এমন একজন প্রাণবন্ত তরুণকে ভেরিফিকেশনের নামে বিসিএস বঞ্চিত করার পেছনে কোনো যুক্তি বোধগম্য নয়। অর্ঘ্য বলেছেন, “এই মুহূর্তে আমি রাষ্ট্রের শীর্ষ অপরাধীদের মধ্যে একজন”। তিনি মনে করেন, একজন শিক্ষার্থীকে যোগ্য ও মেধাবী হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের প্রচেষ্টা এক মুহূর্তে ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্যের রিপোর্টের কারণে।
অর্ঘ্য ছাড়াও ভেরিফিকেশনের নামে ইন্টার্ন শেষ করা আরও পাঁচজন তরুণ চিকিৎসকের নাম গেজেটে আসেনি। তাদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সর্পিতা সাহা, তন্ময় নন্দী, আবু মুছা, সাখাওয়াত হোসেন ও প্রসেনজিৎ নাগ। তারা সবাই দেশের শীর্ষ মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করেছেন। কিন্তু তাদের অপরাধ কী? কেন তাদের ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে? তারা জানেন না।
৪৮তম বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় ৪১ হাজার ২৫ জন আবেদন করে ৫ হাজার ২০৬ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ২৬৩ জনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। ইন্টার্ন শেষ করে পিএসসিতে বিএমডিসি সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন ১৯১ জন। কিন্তু স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভেরিফিকেশন শেষে গেজেট থেকে ছয়জনকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড অনুসারে বাংলাদেশে জনসংখ্যার অনুপাতে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর অর্থ, চিকিৎসকের শূন্য পদের সংখ্যা ১১ হাজার ৪৯৫টি। এত বিপুলসংখ্যক চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও তাদের নিয়োগ আটকে রাখা শুধু রাষ্ট্রীয় অনাচার নয়, মানুষকে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা।
"এই মুহূর্তে আমি রাষ্ট্রের শীর্ষ অপরাধীদের মধ্যে একজন। একজন শিক্ষার্থীকে যোগ্য ও মেধাবী হিসেবে গড়ে তুলতে সেই শিক্ষার্থী, তাঁর অভিভাবক, শিক্ষক ও রাষ্ট্রের এত বিনিয়োগ, প্রচেষ্টা ও শ্রম—সবকিছু এক মুহূর্তে ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে পুলিশ কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য কী রিপোর্ট দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, তার ওপর।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্ঘ্য প্রতিম ঘোষ, সর্পিতা সাহা, তন্ময় নন্দী, আবু মুছা, সাখাওয়াত হোসেন, প্রসেনজিৎ নাগ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য), ৪১ হাজার ২৫ জন আবেদন, ৫ হাজার ২০৬ জন লিখিত উত্তীর্ণ, ৩ হাজার ২৬৩ জন চূড়ান্ত মনোনয়ন, ১৯১ জন ইন্টার্ন শেষ, ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন, ১১ হাজার ৪৯৫টি শূন্য পদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!