📌 বরগুনা আমতলীর ইউনুস আলী খাঁন কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার পর চার শিক্ষার্থীকে বিএনপি নেতারা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকায় তাদেরকে বিএনপির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে থানায় সোপর্দ করা হয়
বরগুনা আমতলী উপজেলায় ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার পর চার শিক্ষার্থীকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে অনুষ্ঠিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। স্লোগান দেওয়ার পর তাদেরকে বিএনপির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮ অক্টোবর সকালে ইউনুস আলী খাঁন কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার পর চার শিক্ষার্থীকে বিএনপি নেতারা আটকে নেয়া হয়।
- 📌 চার শিক্ষার্থী হলেন: মো. সাইফুল কাজী, সুজা, মো. আসিফ ও মো. তামিম।
- 📌 বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম, জালাল উদ্দীন ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকির এবং ছাত্রদল-যুবদলের নেতারা তাদেরকে তুলে নিয়ে যান।
- 📌 অভিযোগ: শুক্রবার দুপুরে তাদেরকে বিএনপির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জালাল উদ্দীন ফকিরের উপস্থিতিতে নির্যাতন করা হয়।
- 📌 শনিবার (১০ অক্টোবর) তাদেরকে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
- 📌 পুলিশের অভিযোগ: চারজনকে গ্রেপ্তার করে বিশেষ আইনে মামলা করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে মহিষকাটা ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। অনুষ্ঠানের শেষে নবীন শিক্ষার্থীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিযোগ উঠে যে, শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও শিক্ষার্থী সুজাকে তুলে নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
জুমার নামাজ শেষে চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে আরও দুই শিক্ষার্থী মো. আসিফ ও মো. তামিমকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম, জালাল উদ্দীন ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকির এবং ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থেকে এসব শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যান। ঘটনার সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল কাজীর বাবা মো. মাহবুব কাজী বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী মহিষকাটা থেকে তুলে নিয়েছে। এখন বিএনপির পার্টি অফিসে আছে। তবে শুনেছি, তাদের থানায় দেওয়া হবে।’ আসিফের পরিবার দাবি করেছে, পার্টি অফিসে দিনভর আটকে রেখে জালাল উদ্দীন ফকিরের উপস্থিতিতে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুব ও জালাল ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকিরের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সাইফুল কাজী ও সুজা নামের দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যান। তাঁদের থানায় না দিয়ে কোথায় রাখা হয়েছে বা তাঁদের সঙ্গে কী করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
"দলীয় নেতা-কর্মীরা ওদের এনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না এবং কারা ইন্ধন দিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ওদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়।"
জালাল উদ্দীন ফকির নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জানান, চারজনকে গ্রেপ্তার করে বিশেষ আইনে মামলা করা হয়েছে। তাঁদেরকে শনিবার (১০ অক্টোবর) আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহিষকাটা ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজ, আমতলী উপজেলা, বরগুনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জালাল উদ্দীন ফকির, মো. সাইফুল কাজী, মো. আসিফ, মো. তামিম, সুজা, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম, ফাহাদ ফকির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন শিক্ষার্থী, ৮ অক্টোবর, ১০ অক্টোবর, ৯:০০ টা, ৮:০০ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!