📌 বাগেরহাটে মধ্যরাতে হাসপাতালে দায়িত্বরত নারী চিকিৎসক সাকিয়া হককে শ্রমিক দলের নেতার লোকজন মারধর ও গালাগালের অভিযোগ উঠেছে। রোগীকে ক্যানুলা পরানোর বিষয়ে বিতর্কের পর ঘটনা ঘটে
বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে মধ্যরাতে নারী চিকিৎসক সাকিয়া হককে শ্রমিক দলের নেতার লোকজন মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার রাত ১২টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী চিকিৎসক সাকিয়া হক হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাকিয়া হক অভিযোগ করেন, শ্রমিক দলের নেতা আবু হানিফের লোকজন তাঁকে তাঁর কক্ষে ঢুকে গালাগাল ও মারধর করতে তেড়ে আসেন।
- 📌 রোগীকে ক্যানুলা পরানোর ব্যর্থ চেষ্টা ও নার্সের জায়গা ফুটো করার দাবি নিয়ে ঘটনাটি ঘটে।
- 📌 হাসপাতালের কর্মকর্তা অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ঘটনায় মর্মাহত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হবে।
- 📌 আবু হানিফের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। সাবেক শ্রমিক দল নেতা সেলিম ভূঁইয়া ঘটনাটিকে দলীয়ভাবে ঘটা বলে অস্বীকার করেন।
📰 বিস্তারিত
সাকিয়া হক ফেসবুকে পোস্ট করে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। তিনি লিখেন, ‘বাগেরহাটে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শানু (আবু হানিফ) এসে শুধু গায়ে হাত দেওয়া বাকি রাখছে নাইট ডিউটিতে। আমি একা রুমে। ৮-১০ জন সাঙ্গোপাঙ্গ এসে মারমুখো। কারণ একটাই—আমাদের ওয়ার্ড বয় ক্যানুলা মিস করছে।’
হাসপাতালের রেজিস্টার অনুযায়ী, রোগীর নাম আবু হানিফ (শানু)। বাগেরহাট পৌর শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে বাগেরহাটে শ্রমিক দলের কোনো কমিটি নেই। আবু হানিফ শ্রমিক দলের জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রস্তাবিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক।
সেলিম ভূঁইয়া মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যাপারটা আসলে তো যেভাবে ফলাও হইছে, ও রকম না। ও তো দলীয়ভাবে যায়নি। একটা নার্স ৬ জায়গা ফুটো করেছে। তখন গিয়ে বলে, ম্যাডাম আমার তো কষ্ট হচ্ছে। আপনি একটু প্লিজ এটে (ক্যানুলা) করে দেন। উনি (ডাক্তার) আবার বলছে, এটা আমার কাজ না। উনিও ত্যাড়া ত্যাড়া কথা বলেছে। এ জন্য এট্টু বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে।’
সাকিয়া হক আরও বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে বুকে ও পেটে ব্যথা নিয়ে একজন রোগী হাসপাতালে আসেন। প্রথমে তাঁর ইসিজি করা হয়। পরীক্ষা ও রক্তচাপসহ অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ পর্যবেক্ষণে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। পরে গ্যাসের সমস্যার জন্য ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দেন। ইনজেকশন দেওয়ার জন্য রোগীর শরীরে ক্যানুলা পরাতে গিয়ে প্রথমবার ব্যর্থ হন ইন্টার্ন চিকিৎসক। দ্বিতীয়বারও একজন ওয়ার্ড বয় চেষ্টা করেন। এতে রোগীর স্বজনেরা মারমুখী হয়ে ওঠেন। দায়িত্বরত ব্যক্তিরা শিশু বিভাগের নার্সদের ডাকতে যান। এর মধ্যবর্তী সময়ে রোগীর সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাঁরা আমার কক্ষে ঢুকে গালাগাল শুরু করেন এবং বারবার মারতে তেড়ে আসেন।’
"রোগীর সঙ্গে আসা সাঙ্গপাঙ্গ (লোকজন) বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন। তাঁরা আমার কক্ষে ঢুকে গালাগাল করেন। বারবার তেড়ে আসেন। গায়ে হাত দেননি, দিতে পারেননি। তবে পরিস্থিতি এমন ছিল যে তাঁরা গায়ে হাত দিতেন কি না, তা বলা কঠিন।"
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা মর্মাহত। কোনো হাসপাতালেই এই পরিবেশ মেনে নেওয়া যায় না। হাসপাতালে পাঁচ শর ওপরে রোগী ভর্তি; কিন্তু কর্মী আছেন পদের তিন ভাগের এক ভাগ। তাঁর মধ্যবর্তীও সবাই সেবা দিতে চেষ্টা করছেন। এমন ঘটনা দুঃখজনক। দুপুর পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানায়নি। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির আগামী সভায় বিষয়টি জানানো হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল, জরুরি বিভাগ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাকিয়া হক (ভুক্তভোগী চিকিৎসক), আবু হানিফ (শ্রমিক নেতা), অসীম কুমার সমাদ্দার (হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, ৮-১০ জন আক্রমণকারী, রাত ১২টা ঘটনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!