📌 রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম প্রতিবন্ধী ভাতা চুরির জালিয়াতিতে ধরা পড়েন। তার পকেটে ১২টি সিম কার্ড পাওয়া যায়, যেখানে ভাতার টাকা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এলাকাবাসীর হাতে আটক হওয়ার পর সিমগুলো জব্দ করা হয়
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম প্রতিবন্ধী ভাতা চুরির জালিয়াতিতে ধরা পড়েছেন। বুধবার বিকাল সাড়ে ১১টায় ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে তিনি এলাকাবাসীদের হাতে আটক হন। তার পকেটে ১২টি সিম কার্ড পাওয়া যায়, যেখানে ভাতার টাকা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গোবিন্দপাড়া ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম প্রতিবন্ধী ভাতা চুরির জালিয়াতিতে ধরা পড়েন, তার পকেটে ১২টি সিম কার্ড পাওয়া যায়।
- 📌 ১২ জনের নাম (শহিদুল ইসলামসহ বাবা, ভাই, ভাতিজি) প্রতিবন্ধী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভাতার টাকা আত্মসাৎ করছিলেন।
- 📌 ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা ভাতার টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে শহিদুলকে মারধর করা হয়।
- 📌 ১০টি সিম কার্ড বিকাশ এজেন্টের কাছে এবং বাকি ২টি তার মোবাইলে লাগানো ছিল, যেখানে ভাতার টাকা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, জালিয়াতির দায়িত্ব নেননি, কিন্তু সিমগুলো তার কাছে জমা দেওয়া হয়।
📰 বিস্তারিত
বুধবার বিকাল সাড়ে ১১টায় গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের মাড়িয়া মোড়ে বিকাশ এজেন্ট এনামুল হকের দোকানে ভাতার টাকা তুলতে যান শহিদুল ইসলাম। তিনি ১০টি সিম কার্ড বিকাশ এজেন্টের কাছে দেন এবং বাকি ২টি তার নিজের মোবাইলে লাগিয়ে রাখেন। এ সময় এলাকাবাসীর সন্দেহে তাঁকে মারধর করা হয় এবং সিমগুলো জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং সিমগুলো ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়।
শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নিজসহ বাবা, ভাই, ভাতিজির নাম প্রতিবন্ধী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন তাঁকে মারধর করে ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা কেড়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান পদে ভুট করবের চাইছি, তাই ষড়যন্ত্র করি এই কাজ করিছে’।
বিকাশ এজেন্ট এনামুল হক জানান, শহিদুল ইসলাম ভাতার টাকা তুলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ১০টি সিম কার্ড দিয়েও টাকা তুলতে পারেননি। তিনি বলেন, সিমগুলোতে ভাতার টাকা ঢুকে গিয়েছে, তাই আর কিছু করা যায়নি।
"আমি এবার চেয়ারম্যান পদে ভুট করবের চাইছি। তাই ষড়যন্ত্র করি এই কাজ করিছে।"
গোবিন্দপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, তিনি জালিয়াতির দায়িত্ব নেননি। তিনি বলেন, সাধারণত ভাতাভোগীর বরাদ্দ সংখ্যা আসার পর ইউপি সদস্যদের মধ্যে তা বণ্টন করে দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, কোনো টাকা কেড়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানেন না। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে সিমগুলো নিজের কাছে রেখেছেন।
বাগমারা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মতিনুর রহমান জানান, শহিদুল ইসলাম নিজসহ স্বজনদের নামে ভাতা নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে সিমগুলোতে ভাতার টাকা ঢুকে গিয়েছে, তাই আর কিছু করা যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন, বাগমারা উপজেলা, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শহিদুল ইসলাম (ইউপি সদস্য), হাবিবুর রহমান (ইউপি চেয়ারম্যান), এনামুল হক (বিকাশ এজেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২টি সিম কার্ড, ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা, ১২ জনের নাম প্রতিবন্ধী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!