📌 বরগুনা হত্যাকাণ্ড মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বরিশাল কারাগারের কনডেম সেলে আছেন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় ফাঁসির দণ্ডের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা জামিনের দাবি করছেন, কিন্তু আদালত এখনো শুনানির সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি
বরগুনা হত্যাকাণ্ড মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বর্তমানে বরিশাল কারাগারের কনডেম সেলে আছেন। ফাঁসির দণ্ডের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় মিন্নির জীবন কনডেম সেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বরগুনা রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামির মধ্যে একজন। বরিশাল কারাগারের কনডেম সেলে আছেন তিনি।
- 📌 ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত মিন্নিসহ ৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। কিন্তু ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির অপেক্ষায় মামলা এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
- 📌 ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজে রিফাত শরীফকে হত্যা করা হয়। মামলায় মিন্নিকে নিহতের স্ত্রী হিসেবে আসামি করা হয়।
- 📌 ১২৬৫টি ডেথ রেফারেন্স বর্তমানে উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা হত্যাকাণ্ডের ডেথ রেফারেন্সটি এখনো শুনানির তালিকায় নেই।
- 📌 মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেছেন, মামলায় সাক্ষীদের বক্তব্যের বৈচিত্র্য ও মিন্নির অসুস্থতার কারণে জামিনের আবেদন করা হয়েছে।
- 📌 মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর দাবি করেছেন, ষড়যন্ত্রে মেয়েকে ফাঁসি দেওয়ার পিছনে সাবেক এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর হাত রয়েছে।
- 📌 কারাগারে মাসে একবার স্বজনদের দেখা ও সপ্তাহে একবার ফোনের সুযোগ পান মিন্নি। বাকি সময় ইবাদত-বন্দেগি করেই কাটে তার দিন।
📰 বিস্তারিত
বরগুনা রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বর্তমানে বরিশাল কারাগারের কনডেম সেলে আছেন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় ফাঁসির দণ্ডের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। কারাগারে ইবাদত-বন্দেগি করেই সময় পার করছেন মিন্নি। স্বজনদের সঙ্গে মাসে একবার দেখা করার সুযোগ পান তিনি।
মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় মিন্নির জীবন কনডেম সেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির অপেক্ষা দীর্ঘ হওয়ায় মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। বরগুনা সরকারি কলেজে ২০১৯ সালের ২৬ জুন দুপুরে রিফাত শরীফকে হত্যা করা হয়। এ মামলায় ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে মিন্নিসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায়ের পর আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের জন্য নথিপত্র ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর হাইকোর্টে আসে। অন্যদিকে দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে মিন্নিসহ ছয় আসামি ওই বছরই পৃথক আপিল করেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির কনডেম সেলে বছরের পর বছর থাকা মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডে মিন্নির জড়িত থাকা নিয়ে সাক্ষীদের একেক রকম বক্তব্য রয়েছে। কারাগারে অসুস্থতা ও নারী কয়েদি বিবেচনায় ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি জামিন আবেদন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। পরে অন্য একটি বেঞ্চে জামিন আবেদনটি উপস্থাপন করা হলেও আদালত মুলতবি করেন। তালিকায় আর আসেনি।
"এই হত্যাকাণ্ডে মিন্নির জড়িত থাকা নিয়ে সাক্ষীদের একেক রকম বক্তব্য, কারাগারে অসুস্থতা ও নারী কয়েদি বিবেচনায় জামিন আবেদন করা হয়েছে।"
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেছেন, ষড়যন্ত্র করে মেয়েকে ফাঁসানো হয়েছে। এতে সাবেক এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর হাত রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, মাসে একবার মেয়েকে দেখা দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। এদিক বিবেচনা করে অন্তত মিন্নিকে জামিন দিতে পারেন আদালত।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশাল কারাগার, বরগুনা সরকারি কলেজ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, মোজাম্মেল হোসেন কিশোর, জেড আই খান পান্না, সৈয়দ ইজাজ কবির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ জুন ২০১৯, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আসামি, ৬ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, ৪ অক্টোবর ২০২০, ১২৬৫টি ডেথ রেফারেন্স, ১৫-২০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!