📌 আসাদুজ্জামান খান কামালের ভগ্নিপতি হামিদ লতিফ ভূঁইয়া আদালতে দাবি করেছেন, তিনি ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের সময়ের হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়
আসাদুজ্জামান খান কামালের ভগ্নিপতি ও সাবেক বরুড়া উপজেলা চেয়ারম্যান হামিদ লতিফ ভূঁইয়া আদালতে স্বীকার করেছেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির বাইরে থেকে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির সময় তিনি এই দাবি করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হামিদ লতিফ ভূঁইয়া আদালতে দাবি করেছেন, তিনি ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন, না আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে।
- 📌 ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ভাটারা এলাকায় শামিম মিয়াকে হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়।
- 📌 আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সোহাগ দাবি করেছেন, মামলা ২০২৫ সালে দায়ের করা হলেও গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন ২০২৬ সালে করা হয়েছে।
- 📌 রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ বলেছেন, লতিফ ভূঁইয়া আসাদুজ্জামান খান কামালের পিএস ছিলেন এবং জুলাই আন্দোলন দমনে অর্থায়ন করেছেন।
- 📌 ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর ১২:৩০ ভাটারা থানার এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়, যার ফলে শামিম মিয়া গুলিবিদ্ধ হন।
📰 বিস্তারিত
আদালতে শুনানির সময় হামিদ লতিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘আসাদুজ্জামান খান কামাল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আমি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বরুড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আমি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসে, তখন তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করি। তার সঙ্গে যদি আমার ভালো সম্পর্ক থাকত, তাহলে কেন তার বাসায় যেতাম না?’
লতিফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা এলাকায় শামিম মিয়াকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা রয়েছে। এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাইয়ের হলেও মামলা হয়েছে ২০২৫ সালে। এরপর ২০২৬ সালে এসে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জামিন ঠেকাতেই তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘লতিফ ভূঁইয়া আসাদুজ্জামান খান কামালের পিএস ছিলেন এবং জুলাই আন্দোলন দমনে অর্থায়ন করেছেন। মামলার তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।’ শুনানি শেষে আদালত লতিফ ভূঁইয়াকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাটারা থানার একশ ফুট এলাকা থেকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগের দিকে যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা ও গুলি চালানো হয়। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। আন্দোলনকারীদের উদ্ধার করতে গেলে শামিম মিয়ার বুক, ঠোঁট, গাল ও মাথায় গুলি লাগে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি ভাটারা থানায় মামলা করেন।
"আসাদুজ্জামান খান কামাল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আর আমি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মেট্রোপলিটন আদালত), ভাটারা (ঢাকা), বরুড়া (কুমিল্লা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হামিদ লতিফ ভূঁইয়া, আসাদুজ্জামান খান কামাল, শামিম মিয়া, এসআই হাবিবুর রহমান, আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সোহাগ, হারুন-অর-রশীদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ সেপ্টেম্বর (শুনানির তারিখ), ১৯ জুলাই ২০২৪ (ঘটনার তারিখ), ১২:৩০ (ঘটনার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!